![]()
ইবি রিপোর্ট
পোশাকশ্রমিকদের চলমান মজুরি আন্দোলন ও সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার প্রস্তাব দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। তাঁদের দাবি, নতুন মজুরি জানুয়ারি থেকে কার্যকর করতে হবে। তবে মালিকপক্ষের একাংশ দ্রুত মজুরি ঘোষণার পক্ষে থাকলেও বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মনে করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কার্যকর করার মতো অবস্থায় নেই শিল্প খাত।
আলোচনার বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২ নভেম্বর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র ও শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শ্রমিক নেতারা সরকারের কাছে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। শ্রম মন্ত্রণালয়ও মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে পোশাক কারখানার কিছু মালিক দ্রুত মজুরি ঘোষণার বিরোধিতা করছেন। অন্যদিকে, কয়েকজন মালিক এতে আপত্তি করছেন না।
বৈঠকে শ্রমিকদের কাছে নতুন মজুরির সম্ভাব্য সময়সীমা দ্রুত জানানো প্রয়োজন বলে মত দেন নেতারা। মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের প্রতিনিধি বাবুল আক্তার বৈঠক শেষে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘মালিকেরা কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা আমি জানি না। তবে যা-ই হোক, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা এবং জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা যাতে তা পান, তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করব।’
শ্রম মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সম্ভব হলে ডিসেম্বরের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য মজুরি বোর্ডকে অনানুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সভাপতি সালাহউদ্দিন স্বপনও দ্রুত মজুরি বোর্ডের সভা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণার আশ্বাস শ্রমিকদের কাছে পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করা হবে—শ্রমিকেরা এমন একটি বার্তা পেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে বাবুল আক্তার বলেন, সভা আয়োজনের অজুহাতে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করা উচিত হবে না। ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা ও জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার লক্ষ্যে পরপর সভা আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনে রাতেও সভা করার কথা বলেন।
শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তারাফদার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, মজুরি বোর্ড একটি স্বাধীন সংস্থা। তাই মন্ত্রণালয় তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে না। তবে যত দ্রুত সম্ভব সুপারিশ জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
বিজিএমইএর একজন জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করা যুক্তিসংগত। কারণ, ওই মাসে বর্তমান ন্যূনতম মজুরির তিন বছর পূর্ণ হবে। তবে এ ঘোষণা মজুরি বোর্ডকেই দিতে হবে বলে জানান তিনি।
ওই নেতা আরও বলেন, আইন অনুযায়ী সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য মজুরি বোর্ড সর্বোচ্চ ছয় মাস সময় পেতে পারে। তবে মাত্র দুটি সভার মাধ্যমেও বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় হবে না।
অন্যদিকে, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কার্যকর করার মতো পরিস্থিতি শিল্প খাতে নেই। তাঁর ব্যাখ্যা, সংশোধিত মজুরি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে পণ্যের নতুন দর নিয়ে আলোচনা করতে কারখানার মালিকদের সময় প্রয়োজন।
বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকেরা তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলন করছেন।
সর্বশেষ নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কার্যকর হয়েছিল। শ্রম আইন অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর পর মজুরি পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। সে হিসাবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে বর্তমান ন্যূনতম মজুরির তিন বছর পূর্ণ হবে।