![]()
ইবি রিপোর্ট
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে সাভারের আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে কয়েকটি স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। এদিকে শ্রমিক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে আশপাশের বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে গেলেও পরে কাজ না করে বেরিয়ে আসেন। এরপর তাঁরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালান আন্দোলনকারীরা। এ সময় বাইপাইল এলাকায় কয়েকটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উত্তেজনা তৈরি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে নরসিংহপুর এলাকার কয়েকটি স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি কারখানা দিনের কার্যক্রম বন্ধ রেখে ছুটি ঘোষণা করেছে। এসব কারখানার মধ্যে রয়েছে অনন্ত গার্মেন্টস, ডেকো গার্মেন্টস, নিউ এইজ, আল-মুসলিম, সাদিয়া ফ্যাশন, নীট এশিয়া, হা-মীম গ্রুপ ও শারমিন গ্রুপ।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে এলেও কাজ শুরু না করে বিক্ষোভে অংশ নেন। এমন পরিস্থিতিতে বেশ কিছু কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশুলিয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ কয়েকটি দাবিতে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন। এ সময় রাজধানীর মিরপুর, ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া, গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল এবং নারায়ণগঞ্জে মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে কারখানা ভাঙচুরের পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষও হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত ১০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় পাঁচটি, গাজীপুরে তিনটি এবং সাভার ও আশুলিয়ায় দুটি মামলা করা হয়েছে।
এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীও রয়েছেন।