• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ | রাজধানী > মিরপুরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

মিরপুরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

  • মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৮
  • ১৬

ছবি: সংগৃহীত

 

ইবি রিপোর্ট

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে আবারও রাজপথে নেমেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে পল্লবী শিল্পাঞ্চলে জমায়েত ও বিক্ষোভের একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় বিভিন্ন দিক থেকে শ্রমিকদের পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।

এর আগে সকাল থেকেই পল্লবী শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে কয়েক হাজার শ্রমিক জড়ো হন। তাঁদের অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়। পরে শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকদের একটি অংশ উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এর পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সংঘর্ষ চলতে থাকায় স্টেশনের ভেতরে অনেক যাত্রী আটকা পড়েন। পরিস্থিতির কারণে ওই স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না। যাত্রী ওঠানামাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, সহিংস পরিস্থিতিতে মেট্রোরেলের যাত্রী এবং স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় মিরপুর-১১ স্টেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্টেশনটিতে ট্রেন থামানো ও যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রয়েছে।

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। শনিবার ও রোববার তাঁরা মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন।

রোববার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবারও মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁদের বাধা দেয় এবং কয়েকটি স্থানে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালেও বিক্ষোভে নামেন শ্রমিকেরা। পরে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলন ঘিরে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবারের সংঘর্ষের কারণে সড়কের পাশাপাশি মেট্রোরেল স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20996 ,   Print Date & Time: Tuesday, 3 November 2026, 06:25:57 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh