• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > সরকারি খাদ্যগুদামে চালের মান রক্ষায় ডব্লিউএফপির সহায়তা চাইলেন খাদ্যমন্ত্রী

সরকারি খাদ্যগুদামে চালের মান রক্ষায় ডব্লিউএফপির সহায়তা চাইলেন খাদ্যমন্ত্রী

  • সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:৪৩
  • ২৫

ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। ছবি: সংগৃহীত

 

ইবি রিপোর্ট

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের প্রাপ্যতা বাড়ানো এবং সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা আনতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহযোগিতা চেয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। একই সঙ্গে ফর্টিফায়েড চালের পুষ্টিগত কার্যকারিতা যাচাইয়ে প্রভাব মূল্যায়ন গবেষণা পরিচালনার জন্য সংস্থাটির কাছে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছে সরকার।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে খাদ্যমন্ত্রীর অফিসকক্ষে ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে খাদ্য ও পুষ্টি খাতে চলমান সহযোগিতা জোরদার, সরকারি খাদ্যশস্যের কৌশলগত মজুত ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের প্রতিটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের প্রাপ্যতা বাড়ানো। এ লক্ষ্য অর্জনে ডব্লিউএফপি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। আমরা এই সহযোগিতাকে আরও সম্প্রসারণ করতে চাই।’

সরকারি খাদ্যগুদামে সংরক্ষিত চালের গুণগত মান বজায় রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন আফরোজা খানম। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় খাদ্যশস্য মজুত রাখার ক্ষেত্রে মান রক্ষা এবং ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। এ জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরিতে ডব্লিউএফপির কারিগরি সহযোগিতা দরকার।

খাদ্যমন্ত্রী জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগে পুষ্টিসমৃদ্ধ ও ফর্টিফায়েড চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে এসব চাল মানুষের পুষ্টির ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে এবং কর্মসূচিগুলো কতটা কার্যকর, তা জানতে নিজস্ব গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

এ উদ্দেশ্যে একটি প্রভাব মূল্যায়ন গবেষণা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণাটি সম্পন্ন করতে আনুমানিক ৪ লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এ কাজে ডব্লিউএফপির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন খাদ্যমন্ত্রী।

ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, ‘বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি উন্নয়নে ডব্লিউএফপি-এর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আগামী ৫ বছরের পরিকল্পনায় কৌশলগত খাদ্য মজুত ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্যশস্যের পুষ্টিমান উন্নয়ন ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

ফর্টিফায়েড চালের কার্যকারিতা নিরূপণে নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ডব্লিউএফপি সম্ভাব্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি অন্য উন্নয়ন সহযোগীদেরও যুক্ত করার উদ্যোগ নিতে পারে বলে জানান কোকো উশিয়ামা।

গবেষণার জন্য বিস্তারিত ধারণাপত্র বা কনসেপ্ট নোট তৈরির পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আশ্বাস দেন ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর।

বৈঠকে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত খাদ্য ব্যবহার করে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে খাদ্য, কৃষি, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ডব্লিউএফপির মধ্যে আগামী পাঁচ বছরের সহযোগিতা পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করে। ২০২৮ সাল থেকে নতুন অংশীদারত্ব কার্যক্রম শুরু করার সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে কথা হয়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20976 ,   Print Date & Time: Monday, 2 November 2026, 02:03:28 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh