![]()
ইবি রিপোর্ট
মিরপুরের ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তে অনড় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১ এলাকার ফুটপাতে হকারদের আর বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তবে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য বিকল্প জায়গা খুঁজে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) ডিএনসিসির প্রশাসক সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান প্রশাসক। বৈঠকে হকার প্রতিনিধিরা মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
বৈঠকে মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, হকাররা সমাজেরই অংশ। তাঁদের ব্যবসার সুযোগ রাখতে নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ জন্য মিরপুর-১০, মিরপুর-১ ও উত্তরায় হকারদের বসার উপযোগী বিকল্প স্থান খোঁজা হচ্ছে। দ্রুত এসব জায়গায় তাঁদের ব্যবসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
হকারদের জন্য হলিডে মার্কেট চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রশাসক। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের বাজারের পরিকল্পনা রয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য হলিডে মার্কেটের ব্যবস্থা করতে ডিএনসিসিও কাজ করছে।
প্রশাসকের মতে, বিকল্প জায়গায় তিন থেকে পাঁচ শ দোকান বসানোর ব্যবস্থা করা হলে সেখানে ক্রেতাদেরও উপস্থিতি বাড়বে। এতে হকারদের কেনাবেচার সুযোগ তৈরি হবে এবং তাঁদের ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে।
ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা ও হকারদের উচ্ছেদের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বাধ্য হয়েই এই অভিযান চালাতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু সিন্ডিকেট ও হকারদের কর্মকাণ্ডের কারণেই বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁরা ফুটপাতের সীমানা ছাড়িয়ে সড়কের অংশও দখল করে রেখেছিলেন।
প্রশাসক বলেন, ওই অবস্থায় সাধারণ মানুষের হাঁটার মতো জায়গা ছিল না। অনেকেই বুঝতে পারতেন না যে তাঁদের চলাচলের জন্য ফুটপাত রয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের পর পথচারীরা ফুটপাতের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পেরেছেন এবং সাধারণ মানুষ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বৈঠকে প্রশাসক ও হকার প্রতিনিধিরা একমত হন যে, ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে হকারদের কারণে সমস্যাটি আরও জটিল হয়েছে। আগে যাঁরা হকারি করতেন, তাঁদের বিকল্প জায়গায় ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রশাসক প্রতিনিধিদলকে জানান, পুনর্বাসনের আওতায় বিকল্প স্থানে হকারদের নিজস্ব চাকাচালিত দোকান থাকবে। সেখানে কোনো চৌকি বসানোর অনুমতি দেওয়া হবে না।
সাক্ষাৎকালে গুলশান জোনের ডিসি মো. রুহুল কবির, গুলশান থানার ওসি, বনানী থানার ওসিসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।