![]()
ইবি রিপোর্ট
সংসারের আর্থিক সংকট কাটিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ১৫ নারী। তাঁদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সেলাইয়ের কাজ শেখার সুযোগ করে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সংগঠনটির উদ্যোগে চলমান প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিয়ে তাঁরা তৈরি করছেন ভবিষ্যতে নিজেরাই উপার্জন করার পথ।
উপজেলার মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই সেলাই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এতে অসহায় ও দরিদ্র নারী, বিধবা এবং দরিদ্র পরিবারের স্কুলছাত্রীসহ পিছিয়ে পড়া ১৫ জন অংশ নিয়েছেন। তাঁদের দক্ষতা বাড়িয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা হাতে-কলমে সেলাইয়ের কাজ শিখছেন। প্রশিক্ষণ শেষ হলে বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর হাতে একটি করে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হবে। এতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা বাড়িতে বসেই সেলাইয়ের কাজ শুরু করতে পারবেন। পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে উপার্জনের সুযোগও তৈরি হবে।
উদ্যোক্তা হওয়ার এই সুযোগকে নিজেদের জীবন বদলের পথ হিসেবে দেখছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। তাঁদের মতে, সেলাইয়ের কাজ শেখার পাশাপাশি একটি মেশিন হাতে পেলে ঘরে বসে আয় করা সম্ভব হবে। এতে পরিবারের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে।
প্রশিক্ষণার্থী জান্নাতুন আক্তার জেলী জানান, আগে তিনি সেলাইয়ের কাজ জানতেন না। তবে প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে এখন কাজটি শিখছেন। ভবিষ্যতে এই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
জান্নাতুন আক্তার জেলীর আশা, একটি সেলাই মেশিন পেলে কাজ শুরু করতে পারবেন। এর মাধ্যমে আয় করে সংসারের খরচে সহযোগিতা করার সুযোগ তৈরি হবে বলেও মনে করেন তিনি।
প্রশিক্ষণার্থী ফাতিহা আয়াত তানহা বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি একটি কাজ শেখার সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত। ভবিষ্যতে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ নিজেই জোগাড় করতে চান তিনি।
এ উদ্যোগকে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখছেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা করুনা কান্ত রায়। তিনি বলেন, নারীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন উদ্যোগ পিছিয়ে পড়া নারীদের আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের হাতে একটি ব্যবহারিক দক্ষতা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি কাজ শুরুর উপকরণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পাওয়ার পর অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের বাড়িতে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এতে তাঁদের আত্মকর্মসংস্থানের পথ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।