• হোম > রাজনীতি > শ্রমিক আন্দোলনকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে

শ্রমিক আন্দোলনকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে

  • সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:০৫
  • ২৩

---

 

ইবি রিপোর্ট

গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ও ন্যায্য মজুরির দাবিকে কেন্দ্র করে শিল্প খাতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। শ্রমিক আন্দোলনকে ব্যবহার করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা সফল হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মাহ্দী আমিন। তাঁর অভিযোগ, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে সামনে রেখে একটি চিহ্নিত মহল গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের উসকানি ও নাশকতার মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতনের দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারখানায় আক্রমণ ও আগুন দেওয়া, পুলিশের গাড়ি ও স্থাপনায় হামলার মতো কর্মকাণ্ড শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থী। শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে পলাতক অপশক্তির অস্থিরতা সৃষ্টির তথ্য-প্রমাণ ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন শ্রমিকরা। এতে বেকারত্ব বাড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হবে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্ত্রাস, ভাঙচুর ও শিল্প ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতে হবে।

নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

নিজের বক্তব্যে দেশের গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশের ইতিহাস তুলে ধরেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। এর মাধ্যমে দেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলেও শিল্পটির বিকাশ ও শ্রমিক কল্যাণে ভূমিকা রাখা হয়।

তিনি আরও বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রমবান্ধব সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে।

গার্মেন্টস শিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিকের জীবিকা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি জড়িত উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য ও প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।

সাধারণ শ্রমিকদের বিভ্রান্তি, গুজব ও উসকানিতে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, গার্মেন্টস খাতের পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় যৌক্তিক অধিকার প্রতিষ্ঠার যেকোনো উদ্যোগে শ্রমবান্ধব সরকার সবসময় শ্রমিকদের পাশে থাকবে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক পথে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20941 ,   Print Date & Time: Monday, 2 November 2026, 10:45:40 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh