![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পেতে চায় ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হলে রুশ শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত তাঁর দেশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন জেলেনস্কি। সংবাদমাধ্যমটির সাংবাদিক ট্রে ইংস্টের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছেন তিনি। এর আগে ট্রাম্প বারবার ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর রাশিয়ার হামলার জবাব হিসেবেই রুশ শোধনাগারগুলোতে আঘাত হানা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি।
এএফপির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলেছি যে রাশিয়া যখন আমাদের জ্বালানি সরবরাহ আক্রমণ করে, আমাদের জনগণকে হত্যা করে, এবং আমাদের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, শোধনাগার এবং অন্য সবকিছুতে আক্রমণ করে, তখন আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়।’
রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের বিষয়ে ইউক্রেনের অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি। জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা বলেছি যে আপনারা যদি চান আমরা রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে আক্রমণ না করি, তবে রাশিয়াকে অবশ্যই আমাদের জ্বালানি সুবিধাগুলোতে আক্রমণ বন্ধ করতে হবে। আরেকটি বিকল্প হলো আমাদের প্যাট্রিয়ট মিসাইল দিন। আমরা অর্থ খুঁজে নেব।’
এর আগে ইউক্রেনের জন্য বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয় ওয়াশিংটন। রাশিয়ার হামলা মোকাবিলায় নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কিয়েভের দীর্ঘদিনের চাওয়া ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমতি শুক্রবার দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
তবে অনুমোদন পাওয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হাতে পেতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জেলেনস্কি। ফলে দ্রুত বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইউক্রেন অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাওয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ট্রাম্প কিয়েভকে বারবার হামলা বন্ধের জন্য চাপ দিলেও জেলেনস্কি মনে করিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের পদক্ষেপের ক্ষেত্রে রাশিয়াকেও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে হবে।