![]()
ইবি রিপোর্ট
হেমন্তের শুরুতেই উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে শীতের আবহ তৈরি হয়েছে। রাতের শেষ ভাগ থেকে ভোর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। ঠান্ডার কারণে সকালে শীতের পোশাক ছাড়া বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে দিনের বেলা এখনো গরমের অনুভূতি থাকায় সকাল ও দুপুরের আবহাওয়ায় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
ভোরে কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক, গাছপালা ও নদীতীরবর্তী এলাকায় সকালে জমে থাকছে শিশির। অবশ্য কুয়াশা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হচ্ছে না। সকাল ৮টার দিকে সূর্য ওঠার পর তা কেটে যাচ্ছে।
প্রতিবছর হেমন্তের শুরু থেকেই পঞ্চগড়ে শীতের অনুভূতি বাড়তে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কার্তিকের মাঝামাঝি ও নভেম্বরের শুরুতেই জেলাজুড়ে শীতের আমেজ দেখা দিয়েছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টায় পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে হিমেল বাতাস বয়ে যাচ্ছিল। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ।
গত কয়েক দিন ধরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি বছর পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, নভেম্বরের শুরু থেকেই পঞ্চগড়ে শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে। মাসের মাঝামাঝি তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে শীত পুরোপুরি নামবে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নভেম্বরের বাকি দিনগুলোতে জেলায় শীতের প্রকোপ বাড়তে পারে। তবে এখনো দিনের গরম কমেনি। সন্ধ্যার পর থেকে ঠান্ডা অনুভূত হলেও দিনের বেলায় তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকছে।
এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শীত মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে। শীত পুরোপুরি জেঁকে বসলে জেলার পাঁচটি উপজেলার দরিদ্র, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।