• হোম > অর্থনীতি > সঞ্চয়ের টাকা বন্ডে বিনিয়োগের আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

সঞ্চয়ের টাকা বন্ডে বিনিয়োগের আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

  • সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৮
  • ২০

---

 

ইবি রিপোর্ট

সঞ্চয়ের অর্থ কোথায় রাখলে ভালো মুনাফা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে অনেকেই সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। ব্যাংকের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও সঞ্চয়পত্রের বাইরে বিনিয়োগের আরেকটি মাধ্যম হতে পারে বন্ড। নির্দিষ্ট মেয়াদে অর্থ বিনিয়োগ করে পূর্বনির্ধারিত শর্তে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকায় এ মাধ্যমটি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠছে। তবে বন্ড কেনার আগে এর ধরন, মুনাফার হার, কর, ঝুঁকি এবং প্রয়োজনে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

বন্ড মূলত একটি ঋণপত্র। সরকার, ব্যাংক কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অর্থ সংগ্রহের জন্য এটি ইস্যু করে। বিনিয়োগকারীরা বন্ড কিনে ইস্যুকারীকে অর্থ দেন এবং নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী মুনাফা পান। তবে শেয়ার কেনার মতো বন্ড কিনলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানার অংশ পাওয়া যায় না।

বাংলাদেশে প্রচলিত বন্ডের মধ্যে রয়েছে সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও করপোরেট বন্ড। করপোরেট বন্ডের ক্ষেত্রে প্রচলিত বন্ডের পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক সুকুকও রয়েছে। মুনাফা দেওয়ার পদ্ধতি অনুযায়ী জিরো-কুপন ও পারপিচুয়াল বন্ডের মতো বিভিন্ন ধরন দেখা যায়।

সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংকও বন্ড ইস্যু করেছে। জিরো-কুপন বন্ডে নির্দিষ্ট বিরতিতে সুদ দেওয়া হয় না। এ ধরনের বন্ড সাধারণত অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম দামে কেনা হয়। মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারী পুরো অভিহিত মূল্য ফেরত পান। কেনার দাম ও মেয়াদ শেষে পাওয়া অর্থের পার্থক্যই এ ক্ষেত্রে মুনাফা।

বন্ডের অন্যতম সুবিধা হলো, অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মেয়াদ ও মুনাফার শর্ত আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। ফলে বিনিয়োগ থেকে সম্ভাব্য আয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে সব বন্ডের মুনাফা ও ঝুঁকির মাত্রা এক নয়। সরকারি, ব্যাংক এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বন্ডের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

এফডিআর বা সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে তুলনা করার সময় শুধু ঘোষিত মুনাফার হার বিবেচনা করলে চলবে না। কর ও অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত আয় কত থাকবে, সেটিও হিসাব করা দরকার। একই সঙ্গে যে প্রতিষ্ঠান বন্ড ইস্যু করছে, তার আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করাও জরুরি।

বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে করের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ব্র্যাক ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তাদের গ্রিন বন্ডের মুনাফার ওপর অগ্রিম আয়কর প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কর রেয়াত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে এসব সুবিধা নির্দিষ্ট শর্ত ও বিধিবিধানের ওপর নির্ভরশীল। তাই বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কর-সুবিধার বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত।

নির্ধারিত মুনাফার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বন্ডকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ বলা যায় না। ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার অবনতি হলে মুনাফা কিংবা আসল অর্থ ফেরত পেতে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে জামানতহীন করপোরেট বন্ড কেনার আগে ইস্যুকারীর ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি।

এ ছাড়া বাজারে সুদের হার বেড়ে গেলে আগে ইস্যু করা বন্ডের বাজারমূল্য কমে যেতে পারে। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বন্ড বিক্রি করতে হলে প্রত্যাশার চেয়ে কম অর্থ পাওয়া বা লোকসানের আশঙ্কা থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োজিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি ট্রেজারি বন্ড কেনা যায়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে হিসাব খুলে বিনিয়োগের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় শর্ত জেনে নিতে হবে। অন্যদিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বন্ড কিনতে বিও হিসাব প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে বন্ডে বিনিয়োগের আগে মুনাফার হার, মেয়াদ, কর-সুবিধা, ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রয়োজনের সময় বন্ড বিক্রির সুযোগ যাচাই করা জরুরি। কেবল বেশি মুনাফার আশায় সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের আর্থিক প্রয়োজন ও ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য বিবেচনায় রেখে বিনিয়োগ করাই যুক্তিযুক্ত।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20899 ,   Print Date & Time: Monday, 2 November 2026, 10:45:43 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh