![]()
ইবি রিপোর্ট
তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে পোশাক খাতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মনে করছে সরকার। এ ধরনের তৎপরতা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
রোববার রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। এরপরও পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত করা এবং শিল্প খাতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে।
সরকারের ধারণা, ডিসেম্বরকে সামনে রেখে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী।
বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘দাবি যেটা ছিল, মজুরি বোর্ড সেটাতো হয়ে গেছে। কাজেই এখন যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়, পোশাক খাতে যাতে অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। এটা পরিষ্কার যে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লোকজন ডিসেম্বরকে সামনে রেখে এসব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’
সোমবারও শ্রমিকদের আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। সরকার তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে শ্রমিক অসন্তোষের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং তা মোকাবিলার করণীয় নির্ধারণে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্যরা অংশ নেন।
বৈঠকে শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণ, পোশাক কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া ও অসন্তোষের পেছনের কারণ বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়েও মতবিনিময় করেন তাঁরা।
এদিকে মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রোববার সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুরসহ গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। দিনভর বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় সড়কে নেমে কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। এতে কয়েকটি এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এই পরিস্থিতিতে পোশাক কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে শ্রমিকদের দাবি ও অসন্তোষের কারণ বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং সংসদ সদস্য ও পরিবহন শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।