• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত থাকলে কারখানা বন্ধের হুঁশিয়ারি বিজিএমইএর

শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত থাকলে কারখানা বন্ধের হুঁশিয়ারি বিজিএমইএর

  • রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ২২:৪৯
  • ২১

---

 

ইবি রিপোর্ট

গার্মেন্টস খাতে শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারেন বলে সতর্ক করেছেন পোশাকশিল্পের মালিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং নিয়মিতভাবে কারখানা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

রোববার রাজধানীর বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে সদস্যদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে এ কথা জানান বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

পোশাকশ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে সরকার ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে। বোর্ড গঠনের দিনই কারখানা বন্ধের বিষয়ে মালিকপক্ষের এই সতর্কবার্তা এল।

বিজিএমইএ সভাপতি শ্রমিক সংগঠন ও ফেডারেশনগুলোকে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শ্রমিক কিংবা মালিক—যে পক্ষই আইন নিজের হাতে তুলে নিক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যহীনভাবে আইন প্রয়োগ করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের কারণে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিজিএমইএর সদস্যরা উদ্বিগ্ন। নিয়মিতভাবে কারখানা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘সকালে কারখানা খোলা হচ্ছে, কিন্তু এক ঘণ্টা পরই আবার বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। আমরা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।’

বৈঠকে বিজিএমইএর প্রায় ২৩৫ জন সদস্য অংশ নেন। তাঁদের প্রতিনিধিত্বে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০টি কারখানা রয়েছে বলে জানান সংগঠনটির সভাপতি।

বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাক খাতের শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনকে তাঁদের সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শ্রমিক কিংবা কারখানার মালিক—যে কেউ সহিংসতায় জড়িত হলে বা আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মাহমুদ হাসান খান। এ বিষয়ে বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর বার্তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা।

নতুন গঠিত মজুরি বোর্ডের সদস্যদের যৌথভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে শ্রমিক ও শিল্পসংশ্লিষ্ট সবাইকে বোর্ডের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানোর প্রস্তাব দিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি।

তাঁর মতে, শ্রমিক, পোশাকশিল্প এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের কাজ মজুরি বোর্ডকে স্বাধীনভাবে করতে দেওয়া প্রয়োজন।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলমান শ্রম অসন্তোষ ও সহিংসতার কারণে মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৫২৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে।

পোশাক খাতে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকেরা যে চাপের মধ্যে রয়েছেন, তা মালিকপক্ষও উপলব্ধি করে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক মন্দা, জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কারখানার রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করা এবং কারখানা সচল রাখা—দুটিই তাঁদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও জানান, মজুরি বোর্ডে সরকার, মালিক ও শ্রমিক—তিন পক্ষেরই প্রতিনিধি রয়েছেন। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো নির্ধারণ সম্ভব বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। এমন একটি কাঠামো চান, যা শ্রমিকদের জীবনমান সুরক্ষার পাশাপাশি পোশাকশিল্পের সক্ষমতাও ধরে রাখবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20886 ,   Print Date & Time: Monday, 2 November 2026, 10:47:40 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh