• হোম > দেশজুড়ে > সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল শুরু

সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল শুরু

  • রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:১৮
  • ১৬

---

 

ইবি রিপোর্ট

শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের কারণে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরের দিকে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। তবে দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ থাকায় জমে থাকা যানবাহনের কারণে এখনো ধীরগতিতে চলছে গাড়ি।

শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সকাল থেকেই গাজীপুরের নাওজোড়, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎসহ আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকটি এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে কাজে যোগ না দিয়ে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে নেমে আসেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা ও লোহার পাইপ হাতে হাজারো শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন।

এ সময় সড়কের ওপর কাঠসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন বিক্ষোভকারীরা। কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি পুলিশ বক্সেও আগুন দেওয়া হয়। কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা দুটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কোনাবাড়ী থানার এক পুলিশ সদস্যকে মারধর করে তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

আন্দোলনের সময় সংবাদকর্মীরাও বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে পড়েন। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন যাত্রী ও পরিবহনচালকেরা। দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন আটকে থাকায় সড়কে ভোগান্তি বাড়ে।

পরে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন। এতে শ্রমিকেরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে সরে যান। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল শুরু হয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিকেরা মহাসড়ক ছেড়ে চলে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আশপাশের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।

তবে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় মহাসড়কে বিপুলসংখ্যক যানবাহন জমে রয়েছে। ফলে সড়ক খুলে দেওয়া হলেও গাড়ির গতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20862 ,   Print Date & Time: Sunday, 1 November 2026, 02:27:16 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh