• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | বাংলাদেশ > পাঁচ মাস ধরে ৩০০ কোটি ডলারের নিচে প্রবাসী আয়

পাঁচ মাস ধরে ৩০০ কোটি ডলারের নিচে প্রবাসী আয়

  • রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:১৩
  • ১৪

---

 

ইবি রিপোর্ট

প্রবাসী আয় টানা পাঁচ মাস ধরে ৩০০ কোটি ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। তবে আগের মাসের তুলনায় অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অক্টোবরে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৮৪ কোটি ডলার। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এ আয় ১২ শতাংশ বেশি।

এর আগে সর্বশেষ গত মে মাসে প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলারের ঘর ছাড়িয়েছিল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আগস্টে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। ফলে সেপ্টেম্বরে কমার পর অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ২৫৬ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে অক্টোবরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১২ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। পরের মাস আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে। তবে সেপ্টেম্বর মাসে আয় কমে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারে নেমে আসে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুবিধা এবং ডলারের আনুষ্ঠানিক বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ খুব বেশি কমেনি। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধের কারণে অস্থিরতা তৈরি হলেও রেমিট্যান্সে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। সেপ্টেম্বরে কিছুটা কমার পর অক্টোবরে আয় আবার বেড়েছে।

তাঁদের মতে, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ও রিজার্ভ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার, যা নতুন রেকর্ড। ওই অর্থবছরের ১২ মাসের মধ্যে ছয় মাসেই ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।

এর আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫-এ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বেড়েছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। দুই বছর আগে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় উল্লম্ফন দেখা যায়। ওই অর্থবছরেই প্রথমবারের মতো প্রবাসী আয় ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর ধারাবাহিকতায় পরের অর্থবছরে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড গড়ে।

ব্যাংকারদের মতে, চলমান সংকটের মধ্যেও অর্থনীতির কার্যক্রম সচল রাখতে প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহ সহায়তা করেছে। এর ফলে ডলারের বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে।

আমদানির জন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডলার কেনাবেচার দাম বেড়েছে। গত ১৯ অক্টোবর ব্যাংকগুলো একে অপরের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা দরে ডলার কিনেছিল। গত বৃহস্পতিবার সেই দর বেড়ে দাঁড়ায় ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায়। এ সময় প্রতিদিনই ডলারের দাম ৫ থেকে ২০ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছে।

ব্যাংকগুলোর ঘোষিত দর পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার সিটি ব্যাংক বিদেশফেরত ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ ডলার কিনেছে ১২৪ টাকা ৭৫ পয়সা দরে। ব্যাংকটি ডলার বিক্রি করেছে ১২৬ টাকায়। একই দিন ব্র্যাক ব্যাংক বিদেশফেরত যাত্রীদের কাছ থেকে ডলার কিনেছে ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় এবং বিক্রি করেছে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায়।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ওই দিন ডলার কিনেছে ১২৫ টাকায় এবং বিক্রি করেছে ১২৬ টাকা ২৫ পয়সায়। অন্যদিকে অগ্রণী ব্যাংক নগদ ডলার কিনেছে ১২৩ টাকায় এবং বিক্রি করেছে ১২৪ টাকায়।

ব্যাংকগুলোতে ডলারের বিক্রয়দর ১২৬ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে থাকলেও খুচরা বাজারে দাম ছিল আরও বেশি। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলের খোলাবাজার ও মানি চেঞ্জারগুলোতে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সায়। এসব প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকদের কাছ থেকে ডলার কেনা হয়েছে সর্বোচ্চ ১২৮ টাকা দরে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20860 ,   Print Date & Time: Sunday, 1 November 2026, 02:29:09 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh