• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > মাহী বুলবুল হত্যা: তিন ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কর্মকর্তাকে পরোয়ানা

মাহী বুলবুল হত্যা: তিন ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কর্মকর্তাকে পরোয়ানা

  • রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:৩৫
  • ১৮

---

 

ইবি রিপোর্ট

রাজধানীর মিরপুরে দন্ত চিকিৎসক আহমেদ মাহী বুলবুল হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির না হওয়ায় ঢাকার তৎকালীন তিন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আগামী ১২ জানুয়ারি তাঁদের আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জাহিদুল ইসলামের আদালতে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে নির্ধারিত দিনে কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হননি। এ কারণে সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ১২ জানুয়ারি নির্ধারণ করেন বিচারক।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া জানান, ওই দিন সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তিন ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

ঢাকার তৎকালীন তিন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হলেন আতিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ও মইনুল ইসলাম। তাঁরা ঢাকার সিএমএম আদালতে দায়িত্ব পালনকালে এ মামলার তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেছিলেন।

পরোয়ানার আওতায় থাকা তদন্ত কর্মকর্তা হলেন মিরপুর জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শেখ সাদী আদালতে সাক্ষ্য দেন। তিনি মামলার আসামি রাসেল হোসেনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেছিলেন।

মামলাটিতে মোট ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

২০২২ সালের ২৭ মার্চ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন দন্ত চিকিৎসক আহমেদ মাহী বুলবুল। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী শাম্মী আক্তার ওই দিনই মিরপুর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। অভিযোগপত্রে থাকা আসামিরা হলেন—মো. রায়হান ওরফে সোহেল আপন, রাসেল হোসেন হাওলাদার, আরিয়ান খান হৃদয়, সোলায়মান ও রিপন। তাঁরা সবাই বর্তমানে কারাগারে আছেন।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আহমেদ মাহী বুলবুল পেশায় দন্ত চিকিৎসক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ছিলেন। ঠিকাদারির কাজে নোয়াখালী যাওয়ার উদ্দেশ্যে ২৭ মার্চ ভোর সোয়া ৫টার দিকে বাসা থেকে বের হন তিনি। রিকশায় করে শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাওয়ার পথে পশ্চিম কাজীপাড়ার নাভানা ফার্নিচার শোরুমের সামনে প্রধান সড়কে পৌঁছালে তাঁর রিকশার গতিরোধ করে রিপন ও রাসেল।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ওই দুজন বুলবুলের কাছে থাকা জিনিসপত্র দিতে বলেন। অন্যথায় ছুরি দিয়ে আঘাত করার ভয় দেখান। বুলবুল মোবাইল ফোন দিতে রাজি না হওয়ায় রিপন তাঁর ঊরুতে ছুরিকাঘাত করে। এরপর মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে যান বুলবুল।

পরে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনটি ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করে পাঁচ ছিনতাইকারী। বিক্রির টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৩ সালের ২৬ মে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার শুরু হয়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20848 ,   Print Date & Time: Sunday, 1 November 2026, 01:34:24 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh