![]()
ইবি রিপোর্ট
দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ ও অনুদান দেওয়ার কর্মসূচি সম্প্রসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি—উদ্যোগ (UDYOG)’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে রোববার (১ নভেম্বর) থেকে দেশের অবশিষ্ট ৫৬ জেলার তরুণদের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচিতে একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে প্রথম পর্যায়ে আট জেলার তরুণদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়েছিল। ওই পর্যায়ে আট জেলার ৬৪টি উপজেলা থেকে মোট ১৮ হাজার ৪৪৪টি আবেদন জমা পড়ে। বর্তমানে সেসব আবেদন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
প্রথম পর্যায়ের জেলাগুলো হলো—মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণা। দ্বিতীয় পর্যায়ে এসব জেলার বাইরে দেশের অবশিষ্ট ৫৬ জেলার সব উপজেলা থেকে আবেদন গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ প্রকল্পের আওতায় একজন তরুণ উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার অর্থায়ন পাবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে ঋণ হিসেবে। পাশাপাশি ঋণের সমপরিমাণ, অর্থাৎ সর্বোচ্চ আরও ১০ লাখ টাকা এককালীন অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।
ঋণ ও অনুদানের অর্থ একই সময়ে এককালীন প্রদান করা হবে। এ অর্থায়ন পেতে উদ্যোক্তাদের কোনো জামানত জমা দিতে হবে না। ফলে নতুন উদ্যোগ শুরু করতে আগ্রহী তরুণেরা জামানতের বাধা ছাড়াই এ কর্মসূচির আওতায় অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
দ্বিতীয় পর্যায়ে আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তারা ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এ জন্য নির্ধারিত আবেদন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে হবে।
আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করে ব্যাংক শাখায় জমা দিতে হবে।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করা, তাঁদের চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সহায়তা দেওয়াই ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের জন্য এ প্রকল্পের নীতিমালা জারি করে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে কর্মসূচিটি নেওয়া হয়েছে।