• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > তিন মাসে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের

তিন মাসে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের

  • রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:১৭
  • ১৫

---

 

বাসস

আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শুধু ঢাকা শহর থেকেই ২৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সায়েন্স পলিসি ডায়লগ অন ব্ল্যাক কার্বন অ্যান্ড আদার শর্ট লাইভড ক্লাইমেট পল্যুটেন্টস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা। ধাপে ধাপে এ সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জ্বালানির প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমান সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে কিছু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পেয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কয়লা পোড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বিপুলসংখ্যক ইটভাটা। এসব উৎস থেকে কী পরিমাণ ব্ল্যাক কার্বন নির্গত হচ্ছে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

ইটভাটা থেকে দেশের মোট বায়ুদূষণের প্রায় ১৩ শতাংশ হয়ে থাকে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, ইটভাটাগুলোতে উচ্চ সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা ২০০টি ইটভাটা বন্ধ করা হচ্ছে। এসব ভাটার পরিবর্তে কংক্রিট ব্লক ব্যবহারের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দূষণ কমানো যায়।

ইটভাটা বন্ধের উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধার কথাও তুলে ধরেন শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ খাতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। ফলে কাজটি কঠিন হলেও সরকার পেশাদারত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তাঁর মতে, ইটভাটা বন্ধ করা না গেলে বায়ুর মান উন্নত করা সম্ভব হবে না।

দেশের বায়ুদূষণের প্রায় ৩০ শতাংশ সীমান্ত অতিক্রম করে আসছে বলে জানান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের বেশিরভাগ ভারী শিল্পকারখানা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সংবেদনশীল কূটনৈতিক ইস্যু হওয়ায় এ ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়া বাস্তবিক অর্থেই কঠিন।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ জন্য ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও পুনঃখনন এবং বৈদ্যুতিক বাস ও গাড়ি আমদানির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ বায়ুদূষণ কমানোর উপায় হিসেবে কাজ করবে।

নদীদূষণের চিত্র তুলে ধরে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু ও ধলেশ্বরী নদীতে সরাসরি বর্জ্য ও দূষিত পানি পড়ার ৪২৪টিরও বেশি পয়েন্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এসব স্থানে কোনো ধরনের শোধন ছাড়াই বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে।

শনাক্ত করা দূষণের উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে শিল্পবর্জ্য, সিটি করপোরেশনের বর্জ্য, ঢাকা ওয়াসা এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার নির্গমন। ঢাকার চারপাশের নদী ও জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এ এস এম আব্দুল আওয়াল এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম এবং স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুসটাফসোন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20842 ,   Print Date & Time: Sunday, 1 November 2026, 01:36:31 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh