• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > শ্রমিক অসন্তোষে সাভার-গাজীপুরের ৮০ পোশাক কারখানায় ছুটি

শ্রমিক অসন্তোষে সাভার-গাজীপুরের ৮০ পোশাক কারখানায় ছুটি

  • রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৪৫
  • ১৮

---

 

ইবি রিপোর্ট

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাভার ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। শ্রমিক অসন্তোষের জেরে দুই জেলায় প্রাথমিকভাবে অন্তত ৮০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে সাভারে অর্ধশতাধিক এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অন্তত ৩০টি কারখানা রয়েছে। একই সময়ে কালিয়াকৈরে একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউন ও একটি পিকআপভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারখানার সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভারের অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে অধিকাংশ কারখানায় কাজ স্বাভাবিকভাবে চলছিল। তবে নিশ্চিতপুর এলাকার আল-মুসলিম অ্যাপারেলস, নিউএইজ গ্রুপের একটি কারখানা এবং ট্রাউজার লাইন লিমিটেডের শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুরে শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নেন কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা। তাঁরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিল্প পুলিশের অনুরোধে পরে সড়কের এক পাশে সরে যান আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে শারমিন গ্রুপের শ্রমিকদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

এরপর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শারমিন গ্রুপের কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই এলাকায় হা-মীম গ্রুপ, নিউএইজসহ আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানাও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে অবস্থান করা কয়েকজন শ্রমিক তাঁকে জানিয়েছেন, তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে কর্তৃপক্ষের কেউ কথা বলেননি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, কাজ বন্ধের কারণে ছুটি ঘোষণা করা হলে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। পাশাপাশি অন্য কারখানার শ্রমিকদেরও আন্দোলনে যুক্ত করার চেষ্টা করেন। দ্রুত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের দাবির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে সকাল ১০টার দিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। পুলিশের গাড়ি থেকে প্রচারিত বার্তায় শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে পাশে থাকার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বান জানায় পুলিশ।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে একটি পিকআপভ্যান ও একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে কালিয়াকৈরের অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্পাঞ্চল পুলিশ।

সকালে উপজেলার রতনপুর এলাকার করনী নিট কম্পোজিট, নিট এশিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন। কারখানায় হাজিরা দেওয়ার পর তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ কারণে আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি পিকআপভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারায় গাড়িটি পুড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর একই এলাকার ট্রপিক্যাল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউনেও আগুন দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বাধা দেন। কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, ট্রপিক্যাল কারখানার গোডাউনে আগুন দেওয়ার খবর তাঁরা পেয়েছেন। তবে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20832 ,   Print Date & Time: Sunday, 1 November 2026, 12:42:01 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh