![]()
ইবি রিপোর্ট
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সাল পর্যন্ত পিছিয়েছে জাতিসংঘ। এ জন্য বাড়তি তিন বছর সময় চেয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবকে চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে উত্তরণের প্রস্তুতি ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি এখন সরকারের সামগ্রিক রাজনৈতিক দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক মালিকানা আগের চেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো এবং সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এলডিসি উত্তরণকে শুধু প্রশাসনিক কিংবা কারিগরি কাজ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। বিষয়টি এখন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ: জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত ও আমাদের পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক এ আলোচনায় উত্তরণের সময় বৃদ্ধি এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে চিঠি দেওয়ার মাধ্যমে আগামী তিন বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাই বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও মালিকানা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি জানান, অতীতে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকে মূলত আমলা ও মন্ত্রী পর্যায়ের দায়িত্ব হিসেবে দেখা হতো। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রধানমন্ত্রীর চিঠির পর বিষয়টি সরকারের সামগ্রিক রাজনৈতিক দায়দায়িত্বের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তার মতে, উত্তরণের ক্ষেত্রে কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি প্রয়োজন হলেও এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক মালিকানা। আগামী তিন বছরে যেসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীলতা জরুরি।
দেবপ্রিয় আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই উত্তরণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা এবং প্রতিশ্রুত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকারের রাজনৈতিক দায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছে।