![]()
ইবি রিপোর্ট
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ও হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এই উপসর্গ নিয়ে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪১৭ জন। চলতি বছরে নিশ্চিত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৪ জনে।
রোববার (১ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়। বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। এ সময়ে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। দুজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে হামের উপসর্গের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ১৪৯ জন। দুই হিসাব একত্র করলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ২৫৪ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৬৩২ জন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৬৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১২৯ জন। সিলেট বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ১২৬ জন। ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৯ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
একই সময়ে খুলনা বিভাগে ৮৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। রাজশাহী বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৪১ জন। আর রংপুর বিভাগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫১ জন। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা ১ হাজার ৪১৭।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তি শুরু হওয়ার পর সংখ্যা বেড়েছে। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২ লাখ ৪ হাজার ৭৮৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৮৩ জন।
এদিকে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, এ পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ১৩ জনে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৫ জন।
সার্বিক হিসাবে, দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তি এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে নতুন করে ১ হাজার ৪১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুইজন।