• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে তিন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে তিন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ

  • রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২১
  • ২৮

---

 

ইবি রিপোর্ট

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে একযোগে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। রোববার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুর, রাজধানীর মিরপুর ও আশুলিয়ার বিভিন্ন সড়কে তাঁদের অবস্থানের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও মহাসড়কে হাজারো শ্রমিকের জমায়েত, কোথাও পুলিশ বক্সে আগুন, আবার কোথাও শ্রমিক-পুলিশ মুখোমুখি অবস্থানে তৈরি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি।

সকাল সাড়ে আটটার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় আন্দোলনকারীদের একাংশ একটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে দাবি আদায়ের নামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করছেন শ্রমিকেরা। রোববার সকালে তাঁরা প্রথমে নিজ নিজ কারখানায় প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর কাজ বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। লাঠিসোঁটা হাতে হাজার হাজার শ্রমিক সড়কে নামায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোনাবাড়ী, মৌচাক ও সফিপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কারখানার শ্রমিকেরা সম্প্রতি কয়েক দফায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। সরকার শ্রমিকদের বেতন পর্যালোচনায় নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিলেও অনেক কারখানায় আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এর আগে শনিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। রাতে অবরোধ তুলে নিলেও রোববার সকালে আবারও সড়কে নামেন তাঁরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি।’

রাজধানীর মিরপুরেও শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। রোববার সকাল ৯টার দিকে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই এলাকার সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজট দেখা দেয়।

মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আবুল বাসার মোল্ল্যা বলেন, ‘পোশাক শ্রমিকেরা আজও সড়ক অবরোধ করেছেন। বর্তমানে মিরপুর-১০ নম্বর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা বিকল্প রাস্তা দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ও শনিবারও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা করে মিরপুরের বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেছিলেন শ্রমিকেরা। শনিবারের কর্মসূচির একপর্যায়ে কয়েকটি কারখানা ও শপিং মলে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন নিট এশিয়াসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা। তাঁদের অবরোধের কারণে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সকালে কারখানায় কর্মবিরতির পর কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে আসেন। একপর্যায়ে তাঁরা শারমিন গ্রুপের কারখানার গেটের সামনে অবস্থান নেন। ওই কারখানার শ্রমিকদেরও ছুটি দিয়ে বাইরে বের করে দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

কারখানায় হামলা ঠেকাতে শিল্প পুলিশের সদস্যরা গেটের সামনে অবস্থান নিলে শ্রমিকদের সঙ্গে তাঁদের মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে আশপাশের সব কারখানায় ছুটি ঘোষণার দাবিতে শ্রমিকেরা পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। তাঁদের বিক্ষোভে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20764 ,   Print Date & Time: Sunday, 1 November 2026, 11:55:14 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh