• হোম > রাজনীতি > শ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ শ্রমমন্ত্রীর

শ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ শ্রমমন্ত্রীর

  • শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪০
  • ২৩

---

 

ইবি রিপোর্ট

মজুরি বৃদ্ধি ও বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলন নিরসনে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কারখানার পাওনা পরিশোধে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে মালিকপক্ষ। এ অবস্থায় আন্দোলনরত শ্রমিকদের কর্মসূচি থেকে সরে এসে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তবে চলমান আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) শ্রম ভবনে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

আরিফুল হক চৌধুরী জানান, মজুরি বোর্ড গঠন শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান দাবি। এ বিষয়ে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে গতকাল প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। ওই আলোচনায় পাওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রোববার বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে যাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, সেই তালিকাও সরকারের কাছে জমা পড়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে রোববার তাঁদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

কিছু কারখানায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে বলে উল্লেখ করেন শ্রমমন্ত্রী। এ সমস্যা সমাধানে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি বাস্তবায়নে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্য মালিক সংগঠনগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে মালিকপক্ষও মজুরি বোর্ড গঠনে সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে একমত হয়েছে বলে জানান তিনি। বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য তারাও প্রস্তাব দিয়েছেন।

তবে কারখানার উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দিয়েছেন মালিক প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, কারখানা বন্ধ থাকলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। এতে অর্থপ্রাপ্তি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কারখানার আর্থিক কার্যক্রম ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কারখানা বন্ধ ও সড়ক অবরোধের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী দাবি করেন, আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকদের পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও অংশ নিচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক মহল এই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে দেশের স্থিতিশীল পরিবেশ নষ্ট এবং সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

আন্দোলনস্থলের প্রকৃত অবস্থা জানতে সাংবাদিকদের সরেজমিনে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সেখানে কারা শ্রমিক এবং কারা বাইরে থেকে এসে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন, তা যাচাই করে গণমাধ্যমে তুলে ধরার কথাও বলেন মন্ত্রী।

সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় অসহায় নয় উল্লেখ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবারই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় জনগণ সম্মিলিতভাবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিহত করবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20742 ,   Print Date & Time: Saturday, 31 October 2026, 11:37:28 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh