• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন

মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন

  • শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪৬
  • ১০

---

ইবি রিপোর্ট

মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৪০০ কোটি টাকার দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করছে মেঘনা ব্যাংক। সাত বছর মেয়াদি এ বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পেয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ডটির বার্ষিক কুপন রেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ।

ব্যাংকটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ টায়ার-২ মূলধন হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এতে ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখার পাশাপাশি ঋণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

মেঘনা ব্যাংক জানিয়েছে, প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং পরিবেশে পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা পরিপালন জরুরি। এ লক্ষ্যেই দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকটির দাবি, এ অর্থায়ন শিল্পায়ন, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং বিদ্যমান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণে সহায়তা করতে পারে। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিবর্তনশীল কুপন রেট

৪০০ কোটি টাকার এ বন্ডের কুপন রেট পরিবর্তনশীল। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ছয় মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হারের গড়ের ভিত্তিতে এর রেফারেন্স রেট নির্ধারণ করা হয়। এর সঙ্গে ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে কুপন রেট হিসাব করা হয়।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বন্ডটির বার্ষিক কুপন রেট ছিল ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ। এর মধ্যে রেফারেন্স রেট ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং মার্জিন ৩ শতাংশ। রেফারেন্স রেটের পরিবর্তনের সঙ্গে ভবিষ্যতে বন্ডটির কুপন রেটও পরিবর্তিত হবে।

বিনিয়োগের সুযোগ ও সুবিধা

বন্ডটির অভিহিত মূল্য প্রতি ইউনিট ৫ লাখ টাকা। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে এটি ইস্যু করা হবে। প্রযোজ্য আইন ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যোগ্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

বন্ডটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীরা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এটি কেনাবেচা করতে পারবেন। এতে বন্ডটির লেনদেনযোগ্যতা বাড়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগও সম্প্রসারিত হতে পারে।

ব্যাংকটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রযোজ্য আয়কর আইন ও শর্ত সাপেক্ষে তালিকাভুক্তির পর ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা এ বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াত পেতে পারেন। এ ছাড়া বন্ডটিতে আবগারি শুল্ক নেই এবং বিনিয়োগের পৃথক সর্বোচ্চ সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

মেঘনা ব্যাংকের দাবি, প্রচলিত সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও ডিপিএসের তুলনায় এ বন্ডে বেশি মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কুপন রেট পরিবর্তনশীল হওয়ায় ভবিষ্যতে এর হার রেফারেন্স রেটের ওঠানামার ওপর নির্ভর করবে।

ছয় মাস অন্তর মুনাফা, তৃতীয় বছর থেকে মূলধন ফেরত

বন্ডের বিনিয়োগকারীরা প্রতি ছয় মাস অন্তর কুপন আয় পাবেন। তৃতীয় বছর শেষে মূলধন ফেরত দেওয়া শুরু হবে। এরপর বন্ডের মেয়াদের শেষ পাঁচ বছরে প্রতিবছর মূল বিনিয়োগের ২০ শতাংশ করে পরিশোধ করা হবে।

মেঘনা ব্যাংকের মতে, দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডটি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে দেশের করপোরেট বন্ড বাজারের বিকাশেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20718 ,   Print Date & Time: Saturday, 31 October 2026, 10:39:56 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh