![]()
ইবি রিপোর্ট
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে গত বছরের তুলনায় বোর্ডটির পাসের হার এবং সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এ বছর বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ জন।
শনিবার বেলা ১১টায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফলসংক্রান্ত তথ্য জানান বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৯২ হাজার ১৬২ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৪ হাজার ২৭২ জন।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়ে ছিলেন ৫৫ হাজার ৪৩৪ জন এবং ছেলে ৩৬ হাজার ৭২৮ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে মেয়ের সংখ্যা ২৮ হাজার ৪১৫, আর ছেলে ১৫ হাজার ৮৫৭ জন।
ফলাফলে মেয়েদের পাসের হার ৫১ দশমিক ২৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ছেলেদের পাসের হার ৪৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ, পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন।
চলতি বছর কুমিল্লা বোর্ডে মোট ১ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৮২১ জন মেয়ে এবং ৪৯২ জন ছেলে। ফলে সর্বোচ্চ ফল অর্জনের ক্ষেত্রেও মেয়েদের সংখ্যা ছেলেদের তুলনায় বেশি।
তবে গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে এ বোর্ডে ২ হাজার ৭০৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। সে হিসাবে এবার এ সংখ্যা কমেছে ১ হাজার ৩৯৪ জন।
গত বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। চলতি বছর তা কমে হয়েছে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ পয়েন্ট।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। অন্যদিকে, ১৫টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।
সামগ্রিক ফলাফলে মেয়েদের এগিয়ে থাকা এবং পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার পাশাপাশি শতভাগ পাস করা ও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও এ বছরের ফলাফলে উঠে এসেছে।