• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > দুর্ব্যবহার নয়, দক্ষতা ও মানবিকতায় পুলিশিং করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্ব্যবহার নয়, দক্ষতা ও মানবিকতায় পুলিশিং করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৮
  • ৩১

---

 

ইবি রিপোর্ট

পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগে দুর্ব্যবহার, পক্ষপাতিত্ব ও পেশিশক্তির পরিবর্তে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং মানবিকতাকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অপরাধীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে। তদন্ত থেকে শুরু করে আইন প্রয়োগের প্রতিটি ধাপে নিরপেক্ষতা বজায় রাখাও পুলিশের দায়িত্ব।

বৃহস্পতিবার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই-২০০৬) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়; বরং এমন পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঝুঁকি কমে আসে এবং মানুষ নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।’

পুলিশের দায়িত্ব ও ক্ষমতা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় সংবিধান ও দেশের মৌলিক আইনে পুলিশকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে সেই ক্ষমতা প্রয়োগের সময় সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা বজায় রাখতে হবে।

নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, দক্ষতা ও মানবিকতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ করাই পুলিশের কাজ নয়; মানুষের অধিকার রক্ষা এবং জনসাধারণের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করাও তাদের দায়িত্বের অংশ।

বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ পুলিশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

এসব অপরাধ মোকাবিলায় কেবল প্রচলিত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক তদন্ত, অপরাধের ধরন সম্পর্কে হালনাগাদ জ্ঞান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা।

পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ফরেনসিক ও ডিজিটাল ফরেনসিক, ডিএনএ পরীক্ষাগার, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, বিট পুলিশিং, নারী-শিশু-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯। এ ছাড়া সাইবার জগতে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি। কুচকাওয়াজে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের ১৬২ জনসহ মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেন প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদার প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. মাইনুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন পদমর্যাদার সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচে বেস্ট সার্জেন্ট নির্বাচিত হন মো. ওমর ফারুক। বেস্ট একাডেমিক হন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ সাইফুল ইসলাম এবং বেস্ট শুটার মো. আসাদুজ্জামান।

অন্যদিকে, ক্যাডেট এসআই ব্যাচে বেস্ট ক্যাডেট নির্বাচিত হন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। বেস্ট একাডেমিক হন মো. বোরহানুল ইসলাম, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ দেওয়ান গোলাম রসুল এবং বেস্ট শুটার নির্বাচিত হন মো. কামাল গনি।

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের সদস্যরা নিজ নিজ ইউনিটে যোগ দেবেন। অন্যদিকে, ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষানবিশ এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20606 ,   Print Date & Time: Thursday, 29 October 2026, 01:22:54 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh