• হোম > আন্তর্জাতিক | বিদেশ | বিশ্ব সংবাদ > পুতিনের ৯০ মিনিটের ইতিহাস বয়ানে শান্তি আলোচনা ঘিরে বিতর্ক

পুতিনের ৯০ মিনিটের ইতিহাস বয়ানে শান্তি আলোচনা ঘিরে বিতর্ক

  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৮
  • ২১

---

 

ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টুব ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোর। তবে প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য নির্ধারিত ওই ফোনালাপ চলে ৯০ মিনিট। আলোচনার বেশির ভাগ সময় পুতিন মধ্যযুগের স্লাভ জাতির ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দেন বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে দ্য টেলিগ্রাফ।

কথোপকথন সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের ভাষ্য, ফোনালাপের বড় অংশজুড়ে পুতিন রাশিয়া ও স্লাভ জাতির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে শান্তি আলোচনায় ইউরোপের নেতাদের অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে কী ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ফোনালাপে বর্তমান যুদ্ধের ঐতিহাসিক কারণ নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পেলেও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি নিয়ে অর্থবহ আলোচনা খুব কমই হয়েছে। নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু হলে ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান দাবি হতে পারে যুদ্ধবিরতি।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের অবসান নিয়ে রাশিয়া কতটা আন্তরিকভাবে আলোচনা করতে আগ্রহী, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চার বছর আট মাস ধরে চলা এই সংঘাত বন্ধের প্রচেষ্টায় ফোনালাপটি নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

পুতিনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার উদ্যোগের কারণে স্টুব ও স্টোরে ইউরোপের কয়েকটি ন্যাটো মিত্রের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করাকে ইউরোপের অনেক দেশে সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের এই উদ্যোগ নিয়ে আমি খুবই সন্দিহান।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, ইউরোপের এককভাবে উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত।’

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন জানান, তাঁকে এবং ইউরোপের অন্য নেতাদের এই আলোচনা সম্পর্কে আগে থেকে জানানো হয়নি।

তবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা নিশ্চিত করেছেন, ফোনালাপটি ইউক্রেন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হয়েছিল। পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগকে তিনি ‘সঠিক পদ্ধতি’ বলে বর্ণনা করেন।

ফোনালাপ নিয়ে ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট যুক্তি দিয়েছেন, নিরাপত্তা জোটের পূর্বমুখী সম্প্রসারণই যুদ্ধের অন্যতম মূল কারণ। পুতিন জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে কেবল তখনই, যখন রাশিয়ার আইনি স্বার্থগুলো সম্পূর্ণ ও শর্তহীনভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

গত আগস্টে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ বৈঠকের সঙ্গেও এই ফোনালাপের মিল রয়েছে। ইউক্রেনে দ্রুত শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করার প্রত্যাশায় ট্রাম্প ওই বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। এর আগে নির্বাচনী প্রচারে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তবে বৈঠকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দীর্ঘ ঐতিহাসিক বক্তব্য শোনেন ট্রাম্প। সেখানে নভগোরদের রুরিক ও ইয়ারোস্লাভ দ্য ওয়াইজের মতো মধ্যযুগীয় শাসকদের প্রসঙ্গ উঠে আসে। দ্য আইরিশ টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিন ১৭ শতকের কসাক নেতা বোহদান খমেলনিতস্কি সম্পর্কেও দীর্ঘ বক্তব্য দেন। এতে বিরক্ত হয়ে ট্রাম্প বৈঠক ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পুতিনের ঐতিহাসিক বয়ানে এমন একটি ধারণা তুলে ধরা হয়, যেখানে ইউক্রেনকে রাশিয়ার একটি প্রদেশ হিসেবে দেখানো হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতে একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন।

এদিকে, বুধবার ক্রেমলিন জানিয়েছে, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনায় ইউরোপের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন না। ক্রেমলিনের কর্মকর্তা ইউরি উশাকভ বলেন, স্টুব ও স্টোরের সঙ্গে পুতিনের ফোনালাপে আলোচনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো কথা হয়নি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20596 ,   Print Date & Time: Thursday, 29 October 2026, 01:22:48 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh