![]()
ইবি রিপোর্ট
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে আমদানি করা ৭ লাখ টন গমের পুরোটাই আসবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এ গম সরবরাহের জন্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একটি থেকে বাড়িয়ে দুটি করা হয়েছে। ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব নিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে গম কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গত বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিটুজি ভিত্তিতে গম আমদানির জন্য ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশন অনুমোদিত অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেড এবং লুই ড্রেফুস কোম্পানি (এলডিসি) থেকে মূল্যপ্রস্তাব নেওয়া হবে।
সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালায় জিটুজি পদ্ধতিতে একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব নেওয়া কিংবা সর্বনিম্ন দরদাতার সঙ্গে দর-কষাকষির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এ কারণে এ প্রক্রিয়ায় দরপ্রস্তাব নেওয়া ও দর-কষাকষির জন্য অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।
পাঁচ বছরে প্রতিবছর ৭ লাখ টন আমদানির প্রতিশ্রুতি
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে মোট ৮ লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর মধ্যে জিটুজি পদ্ধতিতে ৭ লাখ টন গম আমদানির জন্য গত ২০ মে নীতিগত অনুমোদন নেওয়া হয়।
সরকারি খাদ্য মজুত বাড়ানো এবং খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রতি বছর জিটুজি ও আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে খাদ্যশস্য আমদানি করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে দ্রুত সংগ্রহের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক দাম নিশ্চিত করার লক্ষ্য থাকে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিটুজি ভিত্তিতে গম আমদানির জন্য গত বছরের ২০ জুলাই দেশটির গম রপ্তানিকারকদের সংগঠন ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে বাংলাদেশ। পরে সংগঠনটি অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেডকে ২০২৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য অনুমোদিত সরবরাহকারী হিসেবে নির্ধারণ করে।
এরপর বাণিজ্যিক দর-কষাকষির মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭ লাখ ৪ হাজার টন গম আমদানি করা হয়। ওই চালানের সরবরাহসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে অ্যাগ্রোকর্প। চলতি অর্থবছরেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এবার অ্যাগ্রোকর্পের পাশাপাশি লুই ড্রেফুস কোম্পানিকেও সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গমে বাড়তি ব্যয়
বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক কমানোর বিষয়ে দর-কষাকষিতে সুবিধা পেতে গত বছর দেশটি থেকে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আওতায় পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর ৭ লাখ টন করে গম আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ।
তবে অন্যান্য উৎসের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানিতে সরকারের ব্যয় বেশি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অন্য দেশ থেকে যে দামে গম কেনা হয়, তার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিতে প্রতি টনে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মার্কিন ডলার বেশি খরচ হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের গমের মান ভালো বলে একাধিকবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে গম আমদানি করা হতো। তবে জিটুজি চুক্তি শুধু দামের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, অন্যান্য স্বার্থ ও রাজনৈতিক চুক্তির বিষয়ও জড়িত। পাশাপাশি বাংলাদেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।