• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৩০
  • ৩১

---

 

ইবি রিপোর্ট

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। তবে কীভাবে এই সরকার গঠন করা হবে, এর ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কতটুকু হবে এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ার কত দিনের মধ্যে সরকার গঠন করতে হবে, সেসব বিষয়ে এখনো পর্যালোচনা চলছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংবিধানের বিভিন্ন ধারা সংশোধন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের অভিজ্ঞতা ও মতামত নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের পদ্ধতি এমনভাবে নির্ধারণের চেষ্টা চলছে, যাতে ভবিষ্যতে এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের সুযোগ না থাকে। সার্চ বডি গঠন কিংবা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সরকার গঠনের সম্ভাব্য পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংসদে বিল উত্থাপন করা হলে সেখানে আলোচনার মাধ্যমে আরও নতুন পরামর্শ ও প্রস্তাব যুক্ত হতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন, ক্ষমতা, কার্যপরিধি এবং নিরপেক্ষ সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সর্বজনগ্রাহ্য একটি কাঠামো তৈরি করাই কমিটির লক্ষ্য।

সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’-এর বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। সনদে থাকা প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চলছে।

বৈঠকে র‍্যাঙ্কড চয়েস ভোটের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়ে কমিটির পক্ষ থেকে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত জানানো হয়েছে। কমিটির সদস্যদের বক্তব্য, এ ধরনের প্রস্তাবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া উচিত।

এ ছাড়া আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নতুন কোনো প্রস্তাব এলে তা বিবেচনা করে দেখার কথাও জানানো হয়েছে।

সংবিধান সংশোধন নিয়ে সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে অনেক প্রস্তাব পাওয়া গেছে বলে জানান কমিটির সভাপতি। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো পরবর্তী বৈঠকগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে।

তবে সব প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনাধীন থাকায় কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও মোছা. তাহসিনা রুশদী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নির্যাতন, দীর্ঘদিন আইনি সুরক্ষা না পাওয়া ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বর্ণনা দেন।

ভবিষ্যতে স্বাধীন বাংলাদেশে যেন এ ধরনের মানবতাবিরোধী ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সংবিধানে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও শক্তিশালী সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার ওপর তাঁরা জোর দেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20576 ,   Print Date & Time: Wednesday, 28 October 2026, 11:31:32 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh