![]()
ইবি রিপোর্ট
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো জিগফ্রিড রেঙ্গলি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সুইস বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সুইজারল্যান্ডের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সুইস বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর সাহায্য নয়, বরং ব্যাপক বিনিয়োগ চায়। দেশের বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে।
বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিসর বাড়ানোর প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, সুইস প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বৈঠকে সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে দেশটির সহযোগিতাও কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
জবাবে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে তাঁর দেশের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংসদীয় কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, দক্ষতা উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিনিময়, কারিগরি শিক্ষা এবং শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা।
আলোচনায় এসব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা উঠে আসে। বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে সম্পর্ক জোরদার হলে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের উপমিশন প্রধান দিপাক এলমার উপস্থিত ছিলেন।