![]()
ইবি রিপোর্ট
দেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজার খুঁজে বের করা এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশি উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬’। আগামী ১৫ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া এবারের প্রদর্শনীতে গত বছরের আটটি খাতের পরিবর্তে স্থান পাচ্ছে ১২টি খাত। এতে প্রায় ২০০ প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছে আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। তিনি জানান, আগামী ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিগ ওয়েভ) এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এক্সপোর উদ্বোধন করবেন।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রথমবারের মতো গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপোর আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবার প্রদর্শনীর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এবারের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্পের ১২টি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
খাতগুলো হলো—তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য ও কিচেনওয়্যার, আসবাব ও গৃহসজ্জা, ওষুধশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), কাগজ ও প্যাকেজিং, অটোমোবাইল, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সিরামিক ও টেবিলওয়্যার।
এই খাতগুলোর পণ্য ও উৎপাদন সক্ষমতা বিদেশি ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগ তৈরির সুযোগ তৈরি করাই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং বিদেশের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের পরিচিতি সম্প্রসারণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ইপিবি। বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সেলরদেরও কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে দেশীয় উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের যোগাযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন ক্রেতা খোঁজা, সম্ভাবনাময় বাজার চিহ্নিত করা এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
ইপিবি মনে করছে, দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণে গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬ বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চারে সহায়ক হতে পারে। প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের পণ্য ও উৎপাদন সক্ষমতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্পর্কে বিদেশি ক্রেতাদের ধারণা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নতুন বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও এ আয়োজন ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
ধারাবাহিকভাবে এক্সপোর আয়োজন সফল হলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সোর্সিং কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা করছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো।