![]()
ইবি রিপোর্ট
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কয়েক শ মানুষ হতাহত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনও দলীয়করণের শিকার হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে সুস্পষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হবে এবং সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে বলে জানান তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে অঞ্চলভিত্তিক সমন্বয় সভার আগে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে এমন অবস্থা তৈরি হওয়ার কথা ছিল না। তাঁর মতে, নির্বাচনের পর সংসদ গঠন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংস্কারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া উচিত ছিল সরকারের। তবে সেই প্রক্রিয়া এগোয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুলিশ বাহিনী সংস্কারের কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারও পুলিশকে আগের পদ্ধতিতে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সরকারের সমালোচনা করায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর মন্তব্য, সরকার কর্তৃত্ববাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চিরতরে শেষ হয়েছে। তবে দলটির দোসররা এখনো রয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁদের বিরুদ্ধে আদর্শিক লড়াই অব্যাহত রাখার কথা জানান এনসিপির এই নেতা। একই সঙ্গে নতুন চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ শক্তির বিরুদ্ধেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না করার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত অঞ্চলভিত্তিক সমন্বয় সভায় এনসিপির একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান অপু এবং সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইয়েদ জামিল।
প্রেস ব্রিফিংয়ে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়গুলো উঠে আসে। এসব বিষয়ে তাঁর উত্থাপিত অভিযোগের পাশাপাশি ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তাব দেওয়ার ঘোষণাও আলোচনায় এসেছে।