• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | বাংলাদেশ | ব্যাংক > সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে ট্রেজারি বিলের নিলাম ডাকল বাংলাদেশ ব্যাংক

সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে ট্রেজারি বিলের নিলাম ডাকল বাংলাদেশ ব্যাংক

  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪৩
  • ২৪

---

 

ইবি রিপোর্ট

নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন ও বকেয়া পরিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। বাড়তি ব্যয়ের অর্থ জোগাতে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ সংগ্রহের গতি বাড়ানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের নিলাম আহ্বান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে এ নিলামের মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসে গতকাল পর্যন্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে সরকার ৫৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। আজকের নিলামে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলে চলতি মাসে ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে ৫৬ হাজার কোটি, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বরে সাড়ে ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘রোববার তথা ১ নভেম্বর সরকার নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করবে। এজন্য বাড়তি টাকার প্রয়োজন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের নিলাম আহ্বান করা হয়েছে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা।

সরকারের ঋণ নেওয়ার চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ইল্ড ছিল ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২৬ অক্টোবর তা বেড়ে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে পৌঁছায়। দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের ইল্ডও বেড়েছে।

অন্যদিকে, ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ গত আগস্ট শেষে রেকর্ড ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এত বিপুল পরিমাণ তারল্য থাকা সত্ত্বেও সরকারের ঋণের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজস্ব আয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্থ সংগ্রহ করতে না পারায় সরকারের ব্যাংকঋণের প্রয়োজন বাড়ছে। চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ঋণের জোগান দিচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ৩২ হাজার কোটি টাকার সুকুক ছাড়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বাড়ানো গেলে ব্যাংক খাতের ওপর সরকারের নির্ভরতা কিছুটা কমতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। আগের অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল রেকর্ড ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। প্রত্যাশার তুলনায় রাজস্ব সংগ্রহ কম হওয়ায় সরকারের নিয়মিত ব্যয় মেটাতেও ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশন বাবদ ১ লাখ ৩১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় আরও প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে সরকারি ব্যয় নির্বাহে অর্থায়নের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20546 ,   Print Date & Time: Wednesday, 28 October 2026, 11:53:00 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh