• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | বাংলাদেশ > এলপিজির দাম ও চার্জ বৃদ্ধি নিয়ে বিইআরসির গণশুনানি বৃহস্পতিবার

এলপিজির দাম ও চার্জ বৃদ্ধি নিয়ে বিইআরসির গণশুনানি বৃহস্পতিবার

  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:২২
  • ১৭

---

 

ইবি রিপোর্ট

দেশে ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ৩০০ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ১৩৭ টাকা নির্ধারণের আবেদন জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। এ প্রস্তাবের ওপর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গণশুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে দাম বাড়ানোর আবেদন নিয়ে গণশুনানির আয়োজন ভোক্তাদের স্বার্থের পরিপন্থী বলে দাবি করেছেন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা।

বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত দামে এ জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানভেদে গ্রাহকদের ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দিয়েও গ্যাস মিলছে না বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা।

ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে কোনো পণ্যের দাম একবার বাড়লে তা সাধারণত আর আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। দাম কমলেও সেই সুবিধা তাঁদের কাছে পৌঁছায় না। দাম কমানোর ক্ষেত্রে বিক্রেতারা আগের দামে পণ্য কেনার কথা বলেন, আর দাম বাড়লে বেশি দামে কেনার যুক্তি তুলে ধরেন।

এমন পরিস্থিতিতে এলপিজি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বোতলজাতকরণসহ বিভিন্ন খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন কয়েকটি কোম্পানি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রস্তাব কার্যকর হলে ভোক্তাদের ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

আমদানিকারকদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) ১২ কেজি এলপিজির নির্ধারিত দাম ৩০০ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ১৩৭ টাকা করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশক পর্যায়ে ১০০ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে কমিশন ২০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটররা।

লোয়াবের সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, পরিবহন খরচ বেড়েছে। ডিজেল ব্যবহার করে জাহাজের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের খরচ বেড়েছে। এসব ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে যুক্তিসংগত সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবু তাহের বলেন, ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিস্ফোরক লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্সের পাশাপাশি টিআইএন, ভ্যাট নিবন্ধন এবং সরকারি কর পরিশোধ করতে হয়। এসব খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে দাম বাড়ানোর দাবি যুক্তিসংগত বলে মনে করেন তিনি।

এর আগে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই দাম বৃদ্ধির আবেদন নিয়ে গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। এতে ভোক্তাদের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, খুচরা বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের হুমকির মুখে তাঁদের চার্জ বাড়ানোর আবেদনের ওপর বিইআরসির গণশুনানি আয়োজন বিস্ময়কর। এ ধরনের ভূমিকার কারণে ভোক্তাদের জ্বালানি অধিকার বিপন্ন হচ্ছে এবং তাঁরা জ্বালানি খাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এলপিজির বিভিন্ন চার্জ ও দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে বৃহস্পতিবার গণশুনানি করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি। শুনানি শেষে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করা হতে পারে। প্রস্তাবগুলো গৃহীত হলে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ও সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় বাড়ার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20542 ,   Print Date & Time: Wednesday, 28 October 2026, 10:51:46 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh