• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তার হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তার হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন

  • মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১৩
  • ১৩

---

ইবি রিপোর্ট

বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের এক যুগ্ম পরিচালকের ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি ও সম্পদ নিয়ে অসংগতি পাওয়ার দাবি করেছে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর আয়কর নথিতে উল্লেখ নেই—এমন ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের টাকা জমা ও উত্তোলন হয়েছে। পাশাপাশি নিজের ও স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত (এফডিআর) এবং জমি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব লেনদেনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তাঁর সব অর্থের উৎস রয়েছে এবং কোনো অবৈধ অর্থ তাঁর হিসাবে জমা হয়নি।

ওই কর্মকর্তার নাম মো. মোশাররফ হোসেন। তিনি ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দেন। বর্তমানে পঞ্চম গ্রেডের এ কর্মকর্তার মূল বেতন ৫৬ হাজার ৩০ টাকা। অন্যান্য ভাতাসহ মাসিক আয় প্রায় ৯০ হাজার টাকা। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গৃহনির্মাণ ও গাড়ির ঋণের কিস্তি এবং আবাসিক কোয়ার্টারের ভাড়া বাবদ অর্থ কেটে নেওয়ার পর তাঁর নিয়মিত বেতন-ভাতার অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা থাকে না।

আয়কর নথির বাইরে ব্যাংক হিসাবে লেনদেন

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মচারী সমবায় সমিতিতে মোশাররফ হোসেনের হিসাবের ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২২ মাসের লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, বেতন বাবদ প্রতীকী পাঁচ পয়সা জমা হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও বোনাস তাঁর হিসাবে জমা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় বেতন-ভাতার বাইরে ওই হিসাবে জমা হয়েছে ৩৭ লাখ ৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদ ভাউচারে ২৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং অন্য ব্যাংক থেকে ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জমা হয়। হিসাব বিবরণীতে এসব অর্থের উৎস উল্লেখ নেই বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে তাঁর নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে, যা ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ খোলা হয়। ওই হিসাবটি আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাবে মোট ২ কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার টাকা জমা হয়েছে এবং প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলনের পর স্থিতি ছিল ৩ হাজার ৪৫০ টাকা।

এ হিসাবে ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কেনার তথ্যও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি নগদ, অন্য ব্যাংক থেকে স্থানান্তর, শেয়ার কেনাবেচা ও লভ্যাংশসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ জমা হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

স্ত্রীর হিসাব ও জমি কেনা নিয়েও প্রশ্ন

প্রতিবেদনে মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী উম্মে হাসান ডলির ব্যাংক হিসাবেও বড় অঙ্কের লেনদেনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি জনতা ব্যাংকে চাকরি শুরু করেন ২০২১ সালে, তখন তাঁর মাসিক বেতন ছিল ২৬ হাজার ৪০০ টাকা। বর্তমানে বেতন-ভাতাসহ মাসিক আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের পর থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর মোট বেতন-ভাতা ছিল ১৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা। এর বিপরীতে জনতা ব্যাংকের একটি হিসাবে ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের আরেকটি হিসাবে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অর্থের বড় অংশ স্বামীর হিসাব থেকে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গাজীপুরের ভূরুলিয়া মৌজায় মোশাররফ হোসেনের আয়কর নথিতে উল্লেখ থাকা জমির পাশাপাশি আরও ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ জমির সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। তাঁর নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জমি কেনা এবং সঞ্চয়পত্রের তথ্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

বিকাশ হিসাবের পেশা নিয়ে ব্যাখ্যা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোশাররফ হোসেনের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দিয়ে ২০২১ সালে বিকাশ হিসাব খোলা হয়। সেখানে পেশা হিসেবে ‘মালিক, মুদি দোকান, সবুজবাগ, ঢাকা’ উল্লেখ ছিল।

এ বিষয়ে মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, ২০১৯ সালে বিকাশ এজেন্টের কাছে হিসাব খোলার সময় এজেন্ট ভুল করে পেশা হিসেবে মুদি দোকানদার লিখেছিলেন। বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

নিজের ব্যাংক হিসাব ও স্ত্রীর হিসাবে বড় অঙ্কের লেনদেনের বিষয়ে মোশাররফ হোসেন বলেন, এসব অর্থ গৃহনির্মাণ ও গাড়ির ঋণ, সঞ্চয়পত্র ভাঙানো এবং সহকর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া ধার থেকে এসেছে। গত তিন-চার মাসে সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা ধার নিয়েছেন বলেও জানান তিনি। জমির বায়না পরিশোধে সঞ্চয়পত্র ভাঙানো অর্থ ও গৃহনির্মাণ ঋণের টাকা ব্যবহারের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরে কয়েকটি ঘটনায় অভিযোগ ও তদন্তের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ব্যাংক হিসাবের লেনদেন ও সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে নেই।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20463 ,   Print Date & Time: Tuesday, 27 October 2026, 10:58:39 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh