![]()
ইবি রিপোর্ট
রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির লোকসান অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও লোকসান করায় টানা চার অর্থবছর লোকসানের মুখে পড়েছে কোম্পানিটি। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। তবে ধারাবাহিক লোকসানের মধ্যেও ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে পরিচালনা পর্ষদ।
মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিতাস গ্যাসের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ঋণাত্মক ৬.০২ টাকা। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি লোকসানের পরিমাণ ছিল ৭.৮০ টাকা। অর্থাৎ, আগের অর্থবছরের তুলনায় বিদায়ী অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান কিছুটা কমেছে।
তবে লোকসান কমলেও কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার অন্যান্য সূচকে অবনতি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের জুন শেষে তিতাস গ্যাসের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) কমে ৮৩.৯৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এই মূল্য ছিল ৯০.১৩ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও হ্রাস পেয়েছে।
তিতাস গ্যাসের আর্থিক প্রতিবেদনে আরেকটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থের প্রবাহে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক ২.৭০ টাকায় নেমে এসেছে। অথচ আগের অর্থবছরে এই সূচক ছিল ১৮.৭ টাকা।
পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক হয়ে পড়ার অর্থ হলো, কোম্পানিটির দৈনন্দিন কার্যক্রম থেকে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ আসছে না; বরং পরিচালন কর্মকাণ্ডে নগদ অর্থের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। আগের অর্থবছরের ইতিবাচক অবস্থান থেকে এক বছরের ব্যবধানে এ সূচকের বড় পরিবর্তন প্রতিষ্ঠানটির নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ওপর চাপের বিষয়টি তুলে ধরছে।
টানা চার অর্থবছর লোকসানের পরও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে তিতাস গ্যাসের পরিচালনা পর্ষদ। তবে এ সুপারিশ কার্যকর হওয়ার আগে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে হবে।
সর্বশেষ বার্ষিক আর্থিক হিসাব ও সুপারিশকৃত লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য আগামী ২৪ ডিসেম্বর এজিএম আহ্বান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সভায় শেয়ারহোল্ডারদের সামনে আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে এবং লভ্যাংশের প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এদিকে ঘোষিত লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণ এবং এজিএমে অংশগ্রহণের জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত এই তারিখের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের যোগ্যতা বিবেচনা করা হবে।
সব মিলিয়ে, আগের বছরের তুলনায় শেয়ারপ্রতি লোকসান কিছুটা কমলেও তিতাস গ্যাসের পুঞ্জীভূত লোকসান, নিট সম্পদমূল্যের পতন এবং পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক হয়ে পড়া কোম্পানিটির আর্থিক পরিস্থিতির ওপর চাপের চিত্র তুলে ধরছে। এখন বার্ষিক সাধারণ সভায় আর্থিক হিসাব ও লভ্যাংশের সুপারিশ অনুমোদনের বিষয়টি সামনে রয়েছে।