• হোম > অর্থনীতি | পুঁজিবাজার > ঋণ পুনঃঅর্থায়নে ২৫ কোটি প্রেফারেন্স শেয়ার ছাড়বে সিঙ্গার

ঋণ পুনঃঅর্থায়নে ২৫ কোটি প্রেফারেন্স শেয়ার ছাড়বে সিঙ্গার

  • মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১৪
  • ২০

---

 

ইবি রিপোর্ট

ঋণের চাপ কমানো, বিদ্যমান ঋণ পুনঃঅর্থায়ন এবং চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পুঁজিবাজার থেকে সর্বোচ্চ ২৫০ কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড। এ জন্য কোম্পানিটি পারপেচুয়াল, নন-কিউমুলেটিভ, নন-কনভার্টিবল ও নন-ভোটিং প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ করে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাবও করেছে পরিচালনা পর্ষদ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দেওয়া এক ঘোষণায় সিঙ্গার বাংলাদেশ জানিয়েছে, প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যে সর্বোচ্চ ২৫ কোটি প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করা হবে। ইলেকট্রনিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের অনুকূলে এসব শেয়ার ছাড়বে।

কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে বর্তমান ঋণ পুনঃঅর্থায়ন করা হবে। পাশাপাশি ঋণের বোঝা কমানো এবং ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চলতি মূলধনের জোগান নিশ্চিত করতেও এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

প্রস্তাবিত শেয়ারগুলো হবে পারপেচুয়াল, নন-কিউমুলেটিভ, নন-কনভার্টিবল ও নন-ভোটিং প্রকৃতির। অর্থাৎ, এসব শেয়ারের নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মূলধন ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। শেয়ারহোল্ডাররাও এগুলোর রিডেম্পশন বা মূলধন ফেরত দাবি করতে পারবেন না।

এ ছাড়া শেয়ারগুলোর লভ্যাংশ হবে অ-পুঞ্জীভূত। কোনো অর্থবছরে লভ্যাংশ দেওয়া না হলে সেই অপরিশোধিত অর্থ পরবর্তী বছরের লভ্যাংশের সঙ্গে যোগ হবে না। পরিচালনা পর্ষদ নিজস্ব বিবেচনায় লভ্যাংশ ঘোষণা করলেই কেবল তা পরিশোধ করা হবে।

এই ধরনের শেয়ার সাধারণ শেয়ারের মতো ভোটাধিকারও দেবে না। ফলে প্রস্তাবিত শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানিটি মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে, তবে এসব শেয়ারধারী সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মতো ভোটাধিকার পাবেন না।

প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর পাশাপাশি সিঙ্গার বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন বর্তমানের ২৫০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করার সুপারিশ করেছে। এ প্রস্তাব কার্যকর করতে আগামী ১৫ ডিসেম্বর বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আয়োজনের কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি।

তবে মূলধন বাড়ানো এবং প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু—দুই প্রস্তাবই বাস্তবায়নের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চূড়ান্ত সম্মতিও নিতে হবে।

এদিকে পৃথক এক ঘোষণায় সিঙ্গার বাংলাদেশ জানিয়েছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে ৭৭ কোটি টাকা।

লোকসানের খবর প্রকাশের পর মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ারের দামে পতন দেখা যায়। দিনটিতে সিঙ্গার বাংলাদেশের শেয়ারের দাম ৫.৭১ শতাংশ কমে ৭১ টাকায় নেমে আসে।

ঋণ পুনঃঅর্থায়ন ও চলতি মূলধনের চাহিদা মেটাতে নতুন শেয়ার ইস্যুর পরিকল্পনার পাশাপাশি তৃতীয় প্রান্তিকের লোকসানের তথ্য প্রকাশের ফলে কোম্পানিটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোর দিকে থাকবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20445 ,   Print Date & Time: Tuesday, 27 October 2026, 08:59:54 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh