• হোম > জাতীয় | প্রধানমন্ত্রী | বাংলাদেশ > জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

  • মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:০৯
  • ২৫

---

 

বাসস

বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং যৌথ সমৃদ্ধির নতুন সুযোগে রূপ দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের অংশীদারত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। এখন এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশ নিতে এবং বিদ্যমান বিনিয়োগের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করতে তিনি জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তাঁর সরকার জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই দেশ একযোগে কাজ করলে উভয়ের জন্য আরও সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৈঠকে দুই দেশের নেতারা দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ও জাপান অভিন্ন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

সফরকালে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় হয়েছে বলেও জানান তারেক রহমান। দুই দেশের আলোচনার ফলাফল এবং অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হবে।

বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় জাপানের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে জাপানের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্য দুই দেশের বন্ধুত্বকে ভিত্তি দিয়েছে।

তিনি বলেন, শান্তিপ্রিয় দেশ জাপান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম দিকেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর অন্যতম। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

সরকারি সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং দেশটির জনগণের প্রতি ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত করাই তাঁদের লক্ষ্য।

জাপান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে যাবে—এমন একটি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শুরুর আগে তাঁরা নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সোমবার চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছান তারেক রহমান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।

সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তিনি।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করেন প্রধানমন্ত্রী।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20443 ,   Print Date & Time: Wednesday, 28 October 2026, 10:51:08 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh