• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ | বাণিজ্য > নিত্যপণ্যের আমদানি বৃদ্ধি, রমজানে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার প্রত্যাশা

নিত্যপণ্যের আমদানি বৃদ্ধি, রমজানে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার প্রত্যাশা

  • মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪
  • ২৩

---

 

ইবি রিপোর্ট

আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে আমদানি ও ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও মসুর ডালের দাম কমেছে এবং ভোজ্যতেল ও চিনির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এসব পরিস্থিতিতে রমজানে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রত্যাশা তৈরি হলেও আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় ও শুল্ক কাঠামোর ওপর নজর রাখার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।

সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তে এসব বিষয় উঠে আসে। ভোজ্যতেল, ডিম, ডাল, ছোলা, খেজুর ও চিনিসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সভায় আসন্ন রমজানে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, দাম স্থিতিশীল রাখা এবং আমদানি ও শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার বিভিন্ন তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

এ সময়ে দেশে মোট ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮ দশমিক ২৩ লাখ মেট্রিক টন। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৫ লাখ টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ১ দশমিক ১৮ লাখ টন। ভোজ্যতেলের এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫ লাখ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৩১ লাখ টন বেশি। এ ছাড়া সয়াবিন বীজ আমদানি হয়েছে ৫ দশমিক ১ লাখ টন, যা গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ১৩ লাখ টন বেশি।

চিনি আমদানি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৭ লাখ টন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ পরিমাণ ১ দশমিক ৫৩ লাখ টন বেশি। চিনির এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১০ লাখ টনে।

রমজানে ইফতারের অন্যতম উপকরণ ছোলার আমদানিতেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে শূন্য দশমিক ৮২ লাখ টন। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক ১২ লাখ মেট্রিক টন। ফলে আমদানি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭০ লাখ টন। এ সময়ে ছোলার এলসি খোলা হয়েছে ১ দশমিক ৩৮ লাখ টন।

একই সময়ে মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ দশমিক ২২ লাখ টন, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬৪ লাখ টন বেশি। এ পণ্যের এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৪ লাখ টনে। অন্যদিকে, খেজুর আমদানি হয়েছে শূন্য দশমিক ১১ লাখ টন। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক শূন্য ৪ লাখ টন।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা খেজুরের জাত, মান ও দামের পার্থক্য বিবেচনায় শুল্ক কাঠামো সহজ, স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, মিশর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করা হয়। পণ্যের বৈচিত্র্যের কারণে একই মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রয়োগে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই আমদানিকারকদের জন্য সহজবোধ্য ও বাস্তবসম্মত শুল্কব্যবস্থা প্রয়োজন। শুল্ক নির্ধারণ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দায়িত্ব হলেও কার্যকর সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় দরকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনায় খেজুরের প্রচলিত শুল্ক সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার বিষয়টিও উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ সুবিধা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট মূল্য ধরে শুল্কায়নের পরিবর্তে খেজুরের প্রকৃত গুণগত মান ও মূল্যের ভিত্তিতে কর নির্ধারণের প্রস্তাবও আলোচিত হয়।

আমদানিকারকদের ভাষ্য, সাধারণ মানের খেজুরের প্রকৃত আমদানি মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্যায়ন না হলে শুল্ক ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। এর সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, বিকল্প পরিবহনপথ ব্যবহার, বাড়তি লজিস্টিক ব্যয় এবং এলসি খোলার জটিলতা যুক্ত হয়ে সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাঁরা সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ফল আমদানির কর কাঠামো আরও সহনশীল করার দাবি জানান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা বাড়লেও মসুর ডালের দাম কমেছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, আমদানি ব্যয় ও স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

সভায় জানানো হয়, ছোলা ও মসুর ডাল আমদানিতে বর্তমানে শুল্ক-কর নেই। তবে চিনি ও ফল আমদানির বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনা করে যৌক্তিক সমন্বয় করা গেলে বাজারে দাম সহনীয় রাখতে সহায়তা হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বাজারে তাজা ফলের দামও কিছুটা কমেছে বলে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সব মিলিয়ে, রমজানের আগে কয়েকটি নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি খোলার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমে আসার তথ্য সামনে এসেছে। তবে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও ভোক্তাদের জন্য দাম সহনীয় রাখতে আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় এবং শুল্কসংক্রান্ত বিষয়গুলোর ওপর নজর রাখা প্রয়োজন বলে সভায় আলোচনা হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20427 ,   Print Date & Time: Tuesday, 27 October 2026, 08:36:19 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh