• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > আগামী বছরও পাম অয়েলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকার পূর্বাভাস

আগামী বছরও পাম অয়েলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকার পূর্বাভাস

  • সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩৩
  • ১১

---

ইবি রিপোর্ট

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তীব্র খরার আশঙ্কায় পাম অয়েলের উৎপাদন কমতে পারে। অন্যদিকে বায়োডিজেল উৎপাদনে ভোজ্যতেলটির ব্যবহার বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদাও বাড়ছে। এ দুই কারণে ২০২৭ সালেও পাম অয়েলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

মালয়েশিয়ার বুরসা মালয়েশিয়া এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত পাম অয়েলের আগাম সরবরাহ চুক্তিতে গত সপ্তাহে টনপ্রতি প্রায় ৪ হাজার ৮০০ রিঙ্গিত বা ১ হাজার ১৭৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বছরের শুরুতে দাম ছিল প্রায় ৪ হাজার রিঙ্গিত। গত আগস্টের শেষ দিকে তা বেড়ে ৫ হাজার রিঙ্গিত ছাড়িয়ে যায়।

বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইস্টা মিয়েলকের নির্বাহী পরিচালক থমাস মিয়েলকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরের জানুয়ারিতেই পাম অয়েলের দাম আবার টনপ্রতি ৫ হাজার রিঙ্গিতে পৌঁছতে পারে।

চলতি মাসের শুরুতে কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ান পাম অয়েল ফোরামে তিনি বলেন, সরবরাহ কমার আশঙ্কা এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে সূর্যমুখী তেল রপ্তানি নিয়ে অনিশ্চয়তা পাম অয়েলের দামে প্রভাব ফেলতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ওই অঞ্চলে উৎপাদন ও পরিবহন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদনে নজর

বিশ্বের মোট পাম অয়েল উৎপাদনের ৮০ শতাংশের বেশি আসে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। ফলে দেশ দুটিতে উৎপাদন কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।

মালয়েশিয়ার হং লিয়ং ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের পূর্বাভাসেও বলা হয়েছে, ২০২৭ সালে এল নিনোর প্রভাব পাম অয়েল উৎপাদনে আরও বেশি হতে পারে। এ আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দিলে পামগাছের ফলন কমতে পারে। তবে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের কারণে উৎপাদন হ্রাসের পূর্ণ চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না।

বায়োডিজেলের চাহিদাও বাড়াচ্ছে চাপ

পাম অয়েলের বাজারে বাড়তি চাপের আরেকটি কারণ বায়োডিজেল ব্যবহারে সরকারি নীতি এবং ডিজেলের উচ্চমূল্য। এসব কারণে জৈব জ্বালানি উৎপাদনে পাম অয়েলের চাহিদা বাড়ছে।

তবে পাম অয়েলের দাম সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে গেলে ক্রেতারা বিকল্প ভোজ্যতেলের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এতে পাম অয়েলের মূল্যবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রস্ট অ্যান্ড সুলিভানের পরিচালক নিখিল ভাল্লাভান বলেন, উৎপাদন কমার আশঙ্কায় ক্রেতারা আগাম পাম অয়েলের মজুদ বাড়াচ্ছেন। আগামী বছরের প্রথমার্ধে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে, ভোজ্যতেল ও জৈব জ্বালানির দাম বাড়লে বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে।

তাঁর মতে, এতে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তাদেরও বাড়তি খরচের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে উৎপাদন কমার ঝুঁকি, জৈব জ্বালানির চাহিদা এবং বিকল্প তেলের বাজার পরিস্থিতি আগামী বছর পাম অয়েলের আন্তর্জাতিক দাম নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20405 ,   Print Date & Time: Monday, 26 October 2026, 01:32:11 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh