![]()
ইবি রিপোর্ট
দিনাজপুরের হিলির বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে রসুনের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়াকে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিক্রেতারা। তবে বাজার ঘুরে দোকানগুলোতে রসুনের সরবরাহ স্বাভাবিক দেখা গেছে। এ অবস্থায় দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
স্থানীয় বাজারে বর্তমানে ছোট আকারের রসুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা, মাঝারি আকারের ১০০ টাকা এবং বড় আকারের রসুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও আকারভেদে রসুনের দাম ছিল ৭০ থেকে ৯০ টাকা।
হিলি বাজারের বিক্রেতা রেজাউল ইসলাম জানান, পাইকারি বাজারে রসুনের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। আগে মোকামে প্রতি মণ রসুন ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে।
বীজ হিসেবে বিক্রি বাড়ায় সরবরাহে ঘাটতি
রেজাউল ইসলাম বলেন, কৃষকেরা মজুদে থাকা রসুন বাজারে ছাড়ছেন না। বরং বাড়তি দাম পাওয়ায় সেগুলোর একটি অংশ বীজ হিসেবে বিক্রি করছেন। বর্তমানে নতুন রসুন রোপণের মৌসুম হওয়ায় বড় আকারের রসুনের চাহিদা বেড়েছে। ফলে বীজ হিসেবে রসুন কেনাবেচা বাড়ায় বাজারে সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
তাঁর ভাষ্য, পাইকারি বাজারে বেশি দামে রসুন কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়াতে হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে পাইকারি বাজারে দাম কমবে এবং তখন খুচরা পর্যায়েও কম দামে রসুন বিক্রি করা সম্ভব হবে।
দাম নিয়ন্ত্রণে অভিযান চলছে
রসুনের বাড়তি দাম নিয়ে ক্রেতাদের উদ্বেগের মধ্যে বাজার তদারকি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
দিনাজপুরের অধিদপ্তরটির সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যাতে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে পণ্য কেনাবেচার দাম যাচাই করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বাড়তি দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে বাজারে রসুনের সরবরাহ স্বাভাবিক দেখা গেলেও দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা দ্রুত মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ চান।