• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > উপসাগরীয় দেশ থেকে ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি

উপসাগরীয় দেশ থেকে ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি

  • সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২১
  • ২২

---

ইবি রিপোর্ট

ইরানের হুমকি ও বাধা সত্ত্বেও গত জুন থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো ১৫০ কোটি ব্যারেলের বেশি জ্বালানি তেল রপ্তানি করেছে। এ সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে তাদের সহায়তায় ৩ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ইরানের হুমকি সত্ত্বেও এ নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী ৯৫ শতাংশের বেশি জাহাজ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সেন্টকমের ভাষ্য, এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক নৌপথটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদারদের ভূমিকা তুলে ধরে।

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা জোরদার

সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার অঞ্চলটি সফরকালে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। গতকাল মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে তিনি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেন।

এক বিবৃতিতে কুপার বলেন, উপসাগরীয় অংশীদার ও নৌপরিবহন শিল্পের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ নৌ চলাচল অব্যাহত রাখার বিষয়ে ওয়াশিংটনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন তাঁর এই সফর।

কুপার আরও বলেন, মাইন অপসারণে নিয়োজিত কর্মীদের প্রচেষ্টায় প্রণালির জাহাজ চলাচলের প্রধান পথগুলো ইরানের পেতে রাখা মাইনমুক্ত রয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) এবং নৌপরিবহন শিল্পের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

যুদ্ধের মধ্যেও তেল সরবরাহ বেড়েছে

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর এ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ে এবং একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব পরিস্থিতির মধ্যেও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ের কাছাকাছি ফিরে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে অঞ্চলটি থেকে প্রতিদিন অন্তত ১ কোটি ৬৫ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল রপ্তানি হয়েছে। ইরানকে হিসাবের বাইরে রাখলে এই পরিমাণ যুদ্ধ-পূর্ব গড় সরবরাহের সমান।

বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর, মার্কিন সামরিক বাহিনীর পাহারা এবং তেল পাইপলাইনের ব্যবহার বাড়ানোর সম্মিলিত প্রভাবে সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তেলের দাম এখনো যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ের ওপরে

সরবরাহ বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখনো যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ের চেয়ে বেশি রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তির দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৪ ডলার ৫০ সেন্ট। গত সপ্তাহে প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর দামটি প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার ৪৮ সেন্টে স্থির হয়েছিল। এর পরদিনই ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ও তেল সরবরাহ অনেকটা স্বাভাবিক হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে যুদ্ধের প্রভাব এখনো রয়ে গেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20399 ,   Print Date & Time: Monday, 26 October 2026, 01:32:03 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh