![]()
ইবি রিপোর্ট
সিকদার গ্রুপের কর্ণধারদের পরিবারের সদস্যদের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধারে আগাম ১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ চেয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পদ উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান আর১ কনসোর্টিয়াম। প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব অনুযায়ী, সম্পদ উদ্ধারের কাজ শুরুর আগেই এ অর্থ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট সাতটি বাণিজ্যিক ব্যাংককে। তবে অর্থ ব্যয়ের পরও সম্পদ উদ্ধার সম্ভব না হলে ব্যাংকগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের উপস্থিতিতে সাতটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিষয়টি জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা জানান, সিকদার গ্রুপ বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট সাতটি ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে দেশের বাইরে পাচার করেছে। এখন পর্যন্ত বিদেশে তাদের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এসব সম্পদ উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নিতে আর১ কনসোর্টিয়াম ১২৫ মিলিয়ন ডলার আগাম দাবি করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই ব্যয় বহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট সাতটি ব্যাংককে।
তবে সম্পদ শনাক্ত হওয়া আর তা বাস্তবে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা এক বিষয় নয়। ফলে এত বড় অঙ্কের অর্থ আগাম ব্যয় করার পরও সম্পদ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় ব্যাংকগুলোর মধ্যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সম্পদ উদ্ধারের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ঋণ ও লেনদেনের নথিপত্র পর্যালোচনা করছে আর১ কনসোর্টিয়াম। এসব নথির ভিত্তিতে বিদেশে থাকা সম্পদগুলো প্রকৃতপক্ষে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাতটি ব্যাংক ১২৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরও যদি কোনো সম্পদ উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তাহলে ব্যাংকগুলো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বে।
এ কারণে প্রস্তাবটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যাংকগুলোর নথিপত্র এবং সম্পদ উদ্ধারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিদেশে সম্পদ শনাক্ত করার পরও আইনি প্রক্রিয়া, মালিকানা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনগত ব্যবস্থার কারণে তা ফেরত আনা জটিল হতে পারে।
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন লাগবে
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, আর১ কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবটি সংশ্লিষ্ট সাতটি ব্যাংকের নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করা হবে। পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন দিলেই কেবল উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া এগোবে।
অর্থাৎ, এখনো প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ প্রস্তাব অনুমোদন করবে কি না, তার ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে।
বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে সম্ভাব্য ব্যয়, সম্পদ ফেরত পাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা এবং অর্থ ব্যর্থ হলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক দায়—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই প্রস্তাবটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে।