![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার তেহরানে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। সেখানে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে চার দেশের এই আলোচনা ঘিরে তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক আগ্রহ।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের উপসচিব আলী বাঘেরি কানি জানিয়েছেন, বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন অংশ নেবেন। তবে বৈঠকটি ঠিক কখন অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কানি বলেন, ‘স্থায়ী আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে এই বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।’ বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত না জানালেও তিনি জানান, গত সপ্তাহে আসিম মুনিরের তেহরান সফরের সময় এ বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে এই উদ্যোগের সময় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পারস্পরিক সম্পর্কও আলোচনায় রয়েছে। সৌদি আরব বর্তমানে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই করছে। অন্যদিকে, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরব মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।
এর পাশাপাশি ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের রিয়াদ, তুরস্কের আঙ্কারা, পাকিস্তানের ইসলামাবাদ ও ইরানের তেহরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে বসার বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া অস্থিরতা নিরসনে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি পরিবহনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি বর্তমানে ইরান ও তাদের মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তেহরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকার দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নৌপথে পাল্টা অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও জ্বালানি পরিবহনের পথ ঘিরে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে তেহরানের বৈঠকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার একটি নতুন উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বা তা চলমান অস্থিরতা নিরসনে কতটা ভূমিকা রাখবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।