![]()
ইবি রিপোর্ট
অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করেছে ব্যাংকটি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য ব্যাংকের সংঘবিধি ও সংঘ স্মারকের সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করতে হবে। ইজিএমে বিনিয়োগকারীদের সম্মতি পাওয়ার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রথমার্ধে বেড়েছে শেয়ারপ্রতি আয়
পূবালী ব্যাংকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৩৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে পুনর্মূল্যায়িত ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৭০ পয়সা। ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ৯০ পয়সায়।
২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। ওই বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৮ টাকা ৩৮ পয়সা, যা আগের বছরের ৫ টাকা ৯৯ পয়সার চেয়ে বেশি। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে এনএভিপিএস ছিল ৫৪ টাকা ৩২ পয়সা।
এর আগে ২০২৪ হিসাব বছরে ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয় ব্যাংকটি। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ছিল। ওই বছরে ইপিএস দাঁড়ায় ৬ টাকা ৭৪ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ৬ টাকা ১ পয়সা। ২০২৪ সালের শেষে এনএভিপিএস ছিল ৪৬ টাকা ৮ পয়সা।
২০২৩ হিসাব বছরেও ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয় পূবালী ব্যাংক। এর মধ্যে নগদ ও স্টক লভ্যাংশ ছিল ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ করে। ওই বছরে ইপিএস ছিল ৬ টাকা ৭৬ পয়সা এবং এনএভিপিএস ছিল ৪৬ টাকা ৩৩ পয়সা। ২০২২ হিসাব বছরে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় ব্যাংকটি। সে বছর ইপিএস ছিল ৫ টাকা ৪৯ পয়সা এবং এনএভিপিএস ছিল ৪১ টাকা ৯৬ পয়সা।
মূলধন ও শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো
পূবালী ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণমান ‘এসটি-১’। ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল) ব্যাংকটির নিরীক্ষিত ও অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা করে এ রেটিং দিয়েছে।
১৯৮৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৫৬১ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫ হাজার ৫০৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫৬ কোটি ১৭ লাখ ২১ হাজার ৮৪২টি।
শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো অনুযায়ী, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৩১ দশমিক ৮৭ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২৩ দশমিক ৩০ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।