![]()
ইবি রিপোর্ট
চারপাশে অনেক মানুষ থাকার পরও কখনো কখনো মনে হতে পারে, নিজের কথা বলার মতো কেউ নেই। কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করে না, আবার মনের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার উপযুক্ত মানুষও খুঁজে পাওয়া যায় না। ব্যস্ততা, কাজের চাপ, সম্পর্কের জটিলতা কিংবা জীবনের নানা পরিবর্তন থেকে এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তবে সব সময় অন্য কেউ পাশে থাকবে, এমন প্রত্যাশা না করে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে একাকী সময়কে আনন্দদায়ক ও নিজের যত্ন নেওয়ার সুযোগে পরিণত করা সম্ভব।
প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের সঙ্গে কথা বলার অভ্যাস করুন। এ জন্য জটিল কোনো বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে না। দিনের সাধারণ ঘটনা, নিজের ভালো লাগা কিংবা মনের মধ্যে জমে থাকা চিন্তাগুলো নিয়েও ভাবতে পারেন। নিজের অনুভূতিগুলো বোঝার চেষ্টা করুন। এতে নিজের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
অবসর সময়ে যে কাজগুলো করতে ভালো লাগে, সেগুলোর জন্য আলাদা সময় রাখুন। বই পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা, বাগান করা কিংবা ব্যায়াম—যে কাজেই আনন্দ পান, সেটিতে মনোযোগ দিন। কোনো শখ থাকলে সেটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। যেমন, ছবি আঁকতে ভালো লাগলে নতুন ধরনের ছবি আঁকার চর্চা করতে পারেন। নিজের পছন্দের কাজ একাকী সময়কে অর্থবহ করে তুলতে পারে।
শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার জন্য প্রতিদিন হাঁটতে বের হতে পারেন কিংবা হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। নিয়মিত শরীরচর্চা মন ভালো রাখতে এবং দৈনন্দিন কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। শুরুতে অল্প সময় হাঁটা বা সহজ কিছু ব্যায়াম দিয়েই অভ্যাসটি গড়ে তোলা যায়।
নতুন কিছু শেখা নিজের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর একটি উপায়। রান্না করতে ভালো লাগলে নতুন কোনো পদ তৈরির চেষ্টা করতে পারেন। চাইলে নতুন ভাষা শেখা কিংবা কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানোর চর্চাও শুরু করতে পারেন। নতুন দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে অবসর সময়কে কাজে লাগানো সম্ভব।
দীর্ঘ সময় ঘরে বসে না থেকে সুযোগ পেলে বাইরে কিছুটা সময় কাটান। কাছাকাছি কোনো জায়গায় হাঁটতে যেতে পারেন। বাইক বা গাড়ি থাকলে সময় ও সুযোগ অনুযায়ী কিছুক্ষণের জন্য ঘুরেও আসতে পারেন। পরিচিত পরিবেশের বাইরে কিছুটা সময় কাটানো দৈনন্দিন একঘেয়েমি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাজানো জীবন দেখে নিজের জীবনকে ছোট করে দেখবেন না। অনলাইনে সাধারণত মানুষ নিজের জীবনের পছন্দের মুহূর্তগুলোই বেশি তুলে ধরে। ছবি বা ভিডিও দেখে কারও জীবন সব সময় সুখের বলে মনে হলেও বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে। তাই অন্যের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা না করে নিজের অভিজ্ঞতা ও ভালো লাগার বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিন।
মানসিক সুস্থতা ও দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং নিয়মিত ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ঘুমের অনিয়ম মনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং বিশ্রামকে দৈনন্দিন রুটিনের অংশ করে নিন।
পেশাগত জীবন কিংবা ব্যক্তিগত শখ—যে ক্ষেত্রেই হোক, নিজের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন। নতুন দক্ষতা অর্জন, কোনো কাজ শেষ করা কিংবা পছন্দের বিষয়ে নিয়মিত অনুশীলনের মতো লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন। প্রতিটি লক্ষ্য থেকে অর্থ উপার্জন করতে হবে, এমন নয়। নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়া এবং তা পূরণের চেষ্টা নিজের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সময়কে অর্থবহ করে তুলতে পারে।
অন্যকে সাহায্য করা কিংবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়েও ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। দুর্বল ও অসহায় প্রাণীদের প্রতিও যত্নশীল হতে পারেন। অন্যের কল্যাণে কিছু করার অভিজ্ঞতা নিজের সময়কে ইতিবাচক কাজে ব্যয় করার সুযোগ তৈরি করে।
একাকীত্বের অনুভূতি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে কিংবা কাজ, ঘুম ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে ব্যাঘাত ঘটালে বিষয়টিকে অবহেলা করবেন না। এমন পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। নিজের অনুভূতি নিয়ে কথা বলা এবং প্রয়োজনমতো সহায়তা চাওয়া নিজের যত্ন নেওয়ারই একটি অংশ।