![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও অপরিশোধিত তেল পরিবহনের অবকাঠামোসহ সাতটি স্থানে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। অন্যদিকে, মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ মক্কার ওয়াদি আল মুগাম্মাস এলাকায় পড়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথিরা সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার দাবি জানায়। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
হুথিদের বিবৃতি অনুযায়ী, সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর, ইয়ানবুতে আরামকো কোম্পানির স্থাপনা, রাবিগ তেল শোধনাগার, দাম্মামের ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নাজরান বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।
এ ছাড়া, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিমাঞ্চলে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পাইপলাইন এবং তেল পাম্পিং স্টেশনগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হুথিদের দাবি, তেল পরিবহনের পাইপলাইন ও পাম্পিং স্টেশন লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযান নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। তবে এসব স্থাপনায় হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি কিংবা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিহত ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ মক্কার ওয়াদি আল মুগাম্মাস এলাকায় পড়ে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের আরও কিছু অংশ জেদ্দার আল নুজহা এলাকা, তাইফের ওয়াদি জলিল এবং রাবিগের মাসতুরা এলাকায় পড়েছে।
সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার ঘটনায় কোনো হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
হুথিদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের সাতটি স্থানে হামলার দাবি জানানো হলেও এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে, দাবিকৃত হামলাগুলোতে বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা কিংবা পাইপলাইন ও পাম্পিং স্টেশনের কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তা-ও স্পষ্ট করা হয়নি।
একদিকে হুথিদের হামলার দাবি, অন্যদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা—এ দুই ঘটনার বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের বাইরে পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ এখনো পাওয়া যায়নি।