![]()
ইবি রিপোর্ট
টানা আট দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার সকাল থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে যোগ দিয়েছেন প্রায় তিন হাজার শ্রমিক। দীর্ঘ ছুটির কারণে জমে থাকা পণ্য ও ট্রাকের জট কমাতে দ্রুত খালাস কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি উপলক্ষে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা টানা আট দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রেখেছিলেন। এ সময়ে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল ও বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন জানান, শনিবার সকাল থেকে বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শ্রমিকেরা পণ্য খালাসে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তিনি জানান, দীর্ঘ ছুটির কারণে সীমান্তের উভয় পাশে যানজট ও পণ্যজট তৈরি হয়েছে। কয়েক হাজার পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। আমদানি-রপ্তানি ও পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ধীরে ধীরে এসব জট কমতে শুরু করেছে।
প্রতিদিন ২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়
বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ ট্রাক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। এ বন্দর থেকে সরকার প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
টানা আট দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় প্রায় ১৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে সরকার বঞ্চিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, ছুটি শেষে শনিবার সকাল থেকে বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে। ছুটিতে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, যানজট ও পণ্যজট কমাতে দ্রুত পণ্য খালাসের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘ বিরতির পর আমদানি-রপ্তানি শুরু হওয়ায় বন্দরে আবার কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। এখন অপেক্ষমাণ ট্রাকের চাপ কমিয়ে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক করাই সংশ্লিষ্টদের প্রধান লক্ষ্য।