![]()
ইবি রিপোর্ট
গাজীপুরের কাশিমপুরে গার্মেন্টসের কার্টন ও সুতার দুটি গুদামে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে শুরু হওয়া আগুন প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুনে গুদামে রাখা কার্টন, ঝুট ও সুতা পুড়ে গেছে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী জানান, মহানগরীর কাশিমপুরের পশ্চিম শৈলডুবী এলাকায় সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টনের গুদামে প্রথম আগুন লাগে। পরে আগুন পাশের আমার দেশ এগ্রো লিমিটেডের ভাড়া নেওয়া ডিবিএল গ্রুপের সুতার গুদামে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক স্টেশন থেকে ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গাজীপুর, ডিবিএল, সারাবো, ইপিজেড ও ভোগড়া বাইপাস ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের মোট নয়টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুনে টিনশেড গুদামে সংরক্ষিত কার্টন, ঝুট ও সুতা পুড়ে গেছে। তবে এসব মালামালের কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
আমার দেশ এগ্রো লিমিটেডের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, তাদের ভাড়া নেওয়া গুদামে ভারতীয় ও লেকরা সুতা মজুত ছিল। এসব সুতার প্রতি কেজির দাম প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। আগুনে গুদামে থাকা সুতার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে বিস্তারিত হিসাব প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সুপ্রিম গার্মেন্টসের কেমিক্যাল গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলে সরু রাস্তা ও পানির সংকট থাকায় আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বেগ পেতে হয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেই একাধিক ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং এতে মোট কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও দুটি গুদামে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে সংরক্ষিত পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত, বিস্তারের কারণ এবং ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে।