• হোম > জাতীয় | প্রধানমন্ত্রী | বাংলাদেশ > তারেক রহমানের জাপান সফরে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর প্রত্যাশা

তারেক রহমানের জাপান সফরে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর প্রত্যাশা

  • শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫৮
  • ২২

---

ইবি রিপোর্ট

বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন পর্যায়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। জাপান মনে করছে, এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক আস্থা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সরকারি সফর করবেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুই দেশের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফরের ঘোষণা দেয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তাঁর প্রথম জাপান সফর।

সফরের দ্বিতীয় দিন, ২৭ অক্টোবর, টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। এ উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তারেক রহমানের সফরকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকায় জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ বাসসের এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছে, এ সফর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা, অভিন্ন সমৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা হবে।

জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগের মতে, নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের উন্নতি হচ্ছে। বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং মানবসম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে জাপান।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগের সুযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শিল্প খাতে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করবেন তিনি। এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাব্য কর্মসূচি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনায় রয়েছেন জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা), জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) এবং জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) শীর্ষ প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সম্ভাব্য কর্মসূচিতে চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার একটি কারখানা ঘুরে দেখার বিষয়টিও রয়েছে।

সফরে নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানো এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের উপায় নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন, কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই বা সহযোগিতা নিয়ে ঘোষণা আসতে পারে। বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নেও জাপানের সহযোগিতা চাওয়া হবে।

অর্থনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে।

জাপান মনে করে, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ব্যবসায়িক আস্থা বাড়ানো এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব। চলমান সহযোগিতার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নতুন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে পারে বলেও জানিয়েছে দেশটি।

স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন জাপানের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে।

২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের এ সফর নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিনিয়োগ, বাণিজ্য, অবকাঠামো, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়ন থাকবে দুই দেশের অভিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20255 ,   Print Date & Time: Saturday, 24 October 2026, 12:35:02 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh