• হোম > দেশজুড়ে > কুমিল্লার লালমাইয়ে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান

কুমিল্লার লালমাইয়ে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান

  • শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪৭
  • ২৯

---

 

ইবি রিপোর্ট

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে এসআরবি। উপজেলার ইছাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আবু মোহাম্মদ তৌকির নেওয়াজ আসিফ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে কারখানাটির সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের যোগাযোগ থাকার তথ্য পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

অভিযান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, আটক আসিফ কারখানাটির মূলহোতা। সেখানে তৈরি করা অস্ত্র বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর কাছে সরবরাহ করা হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) এসআরবি-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে ধারণা করা হচ্ছে, অস্ত্রের প্রতি আসিফের বিশেষ আগ্রহ ছিল। এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগও করতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইছাপুরের ওই কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম চলছিল। সেখানে উৎপাদিত অস্ত্র কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার তথ্যও মিলেছে। তবে অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কারখানায় তৈরি অস্ত্রের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হতো। একই সঙ্গে অস্ত্র বিক্রির বিজ্ঞাপনও দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। আগ্রহী ক্রেতাদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে যোগাযোগ, বিভিন্ন তথ্য বিনিময় এবং অস্ত্রের দাম নিয়ে দরদাম করার তথ্যও সামনে এসেছে।

অবৈধ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এসব অস্ত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হলে এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি হুমকির মুখে পড়তে পারে।

ইছাপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, এ ঘটনার কারণে গ্রামের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন এই জনপ্রতিনিধি।

আটক আসিফের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের কাজে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে কারখানাটির কার্যক্রম, অস্ত্র সরবরাহের নেটওয়ার্ক এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20249 ,   Print Date & Time: Saturday, 24 October 2026, 11:51:59 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh